বৃহঃস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

সেন্টমার্টিনে হাতেগোনা উচ্চশিক্ষিতদের একজন মালেক, সড়ক দুর্ঘটনায় চিরবিদায়

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫০

আব্দুল মালেক।  ছবি: সংগৃহীত

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্যমী যুবক ও শিক্ষিত মুখ আব্দুল মালেক (৩৪) আর নেই। স্বপ্নপূরণের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসী।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দরগাহপাড়া এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন আব্দুল মালেক। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ভাই আবদুর রহিম জিহাদী জানান, জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মালেক। এ লক্ষ্যে তিনি রামুর জোয়ারিয়ানালায় বিকেএসপির পাশের একটি সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছিলেন। বুধবার ছিল তার প্রশিক্ষণের শেষ দিন। প্রশিক্ষণ শেষে কক্সবাজার শহরে ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় মালেকসহ আরও দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে মালেককে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত অপর দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিন জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল মালেক সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা, মৃত আলী হোসেনের ছেলে। তিনি সেন্টমার্টিনে ‘সি প্রবাল’ নামে একটি কটেজের মালিক ছিলেন। পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয় পত্রিকায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত লেখালেখি করতেন। সেন্টমার্টিনের সমস্যা, সম্ভাবনা ও পরিবেশ নিয়ে তার লেখাগুলো পাঠকের দৃষ্টি কাড়ত।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্বীপের নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন, যা প্রায়ই ভাইরাল হতো। নিজের ফেসবুক বায়োতে তিনি লিখেছিলেন “মৃত্যুর পর আমার লাশটি জন্মভূমি সেন্টমার্টিনে বাবা-মায়ের কবরের পাশে শায়িত করিও।”

অবশেষে তার সেই ইচ্ছাই পূরণ হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নাফ নদী পাড়ি দিয়ে ট্রলারযোগে মরদেহ সেন্টমার্টিনে নেওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এর আগে বুধবার রাতে টেকনাফের নতুন পল্লানপাড়া সুফিয়া নুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে হাতে গোনা যে কজন তরুণ উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন, আব্দুল মালেক ছিলেন তাদের অন্যতম। তিনি চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। আইনজীবী হওয়ার সুযোগ থাকলেও জীবিকার প্রয়োজনে ব্যবসা ও প্রশিক্ষণকেই বেছে নেন।

মালেকের মৃত্যুতে দ্বীপজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জিয়াউল হক জিয়া বলেন, “মালেক ছিল উদ্যমী ও সচেতন। সে ছিল দ্বীপের তরুণদের অনুপ্রেরণা। তার এমন অকাল চলে যাওয়া মেনে নেওয়া খুব কষ্টের।”



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top