শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা, বিএনপি নেতাসহ গ্রেফতার ৫

নরসিংদী প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৬

ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী এক কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতাররা হলেন, আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), মৃত সাহাবুদ্দিনের ছেলে এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব (৩০), মৃত মজিবুরের ছেলে গাফ্ফার (৩৪)। 

 

অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ একটি সরিষা ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।

 

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মহিসাষুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরীর বাবা বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে তিনি স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

 

প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবারটি মহিসাষুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানের শরণাপন্ন হয়। এ সময় ধর্ষক ও তাদের সহযোগীরা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রফাদফার চেষ্টা করে।

 

রফাদফায় রাজি না হওয়ায় পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

গত বুধবার রাতে কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন তার বাবা। পথে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে আরও কয়েকজন কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান স্বজনরা।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয়রা একই এলাকার একটি সরিষা ক্ষেতে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

 

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, ধর্ষক ও হত্যাকারীসহ সব অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top