রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ডুমুরিয়ার হাসানপুর ব্রিজ নির্মাণ ব্যাহত, অবৈধ স্থাপনা হয়ে দাঁড়ালো বড় বাধা

এস কে বাপ্পি | প্রকাশিত: ১ মার্চ ২০২৬, ১২:২৯

ছবি: সংগৃহীত

ডুমুরিয়ায় অবৈধ স্থাপনার কারণে ব্যাহত হচ্ছে হাসানপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ। দখলদারদের কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ অসম্পূর্ণ রেখে প্রকল্প শেষ করার চেষ্টা করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তার অভাবে এখনও প্রকল্পের জায়গা দখলমুক্ত হয়নি। ফলে জনভোগান্তি বাড়ছে এবং উন্নয়ন কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ পুনঃনির্মাণের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ডুমুরিয়া উপজেলার হাসানপুর হামকুড়া চরভরাটি নদীর উপর ৪১ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গর্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। ১৫ কোটি ৩১ লাখ টাকায় নির্মাণাধীন ব্রিজের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। পূর্ব দিকে খাজুরার পাড়ে গাইডওয়ালসহ অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ হলেও, পশ্চিমের হাসানপুর খেয়াঘাট পাড়ে অবৈধ স্থাপনার কারণে গাইডওয়াল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজও থমকে গেছে।

প্রায় এক বছর ধরে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার মালিকের মধ্যে বিরোধ চলছেই। স্থানীয়রা বলছেন, ব্রিজটি নির্মাণ হলে রুদাঘরা ও ডুমুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হবে। গত বুধবার স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, যেখানে গাইডওয়াল ছাড়া ব্রিজের অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করলে মারাত্মক ঝুঁকি ও ক্ষতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন।

ঠিকাদার মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “ব্রিজের পশ্চিম পাশে তিন শাটার বিশিষ্ট একটি পাকা স্থাপনা রয়েছে, যা সম্পূর্ণ সরকারি নদীর খাস জমির উপর। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল যা খারিজ হয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি, কিন্তু স্থাপনার মালিক খাস জমির টাকা চাচ্ছেন, যা কর্তৃপক্ষ দিতে রাজি নয়।”

স্থাপনার মালিক রেজাউল ইসলাম খান রেজা দাবি করেন, “খাস জমি বাদ দিলাম, কিন্তু আমার শত বছরের রেকর্ডীয় জমিতে কিছু গাছপালা বিনা অনুমতিতে কেটে ফেলা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ ছাড়া আমি সরব না।”

খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক জানান, “স্থাপনাটির কারণে ব্রিজ নির্মাণ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গাইডওয়াল না দিয়ে অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করলে এক বছরও টিকবে না। স্থাপনার মালিক মামলা করেছেন এবং আমাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় আসেননি। আমরা ক্ষতিপূরণ দিতে চাই, তবে তিনি তা গ্রহণ করছেন না।”



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top