বৃদ্ধাদের নিয়ে ঈদ উদযাপন করলো ছাত্রলীগ
গোপালগঞ্জ থেকে | প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২১, ০৩:৪২
-2021-05-14-19-39-39.jpg)
গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্লা ও সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ২০ সদস্যের একটি দল বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে হাজির হন। এসময় তারা এসব বৃদ্ধাদের খোঁজ খবর খবর নেন। সন্তান আর পরিবারহীন এসব আশ্রিত বৃদ্ধারা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে তাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।
এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বৃদ্ধাশ্রমে ঠায় পাওয়া মা-বাবাদের নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করেন। থালায় তুলে দেন বিভিন্ন রকমের খাবার। সন্তানের হাতে দেয়া খাবার মনে করে পরম স্নেহে মুখে তুলে নেন। তাদের একরাশ আনন্দ আর খুশিতে যেন ভুলে গিয়েছিলেন জীবনে না পাওয়ার দু:খ আর কষ্টকে।
বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মমতা বিশ্বাস (৭০), গোলাপী সরকার (৭৫) হৈমন্তি সরকার বলেন, এখানে আমরা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছি। আমাদের নেই কোন আপন জন, নেই কোন পরিবার। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এখানেই আমাদের থাকতে হবে। বাবারা আমাদের কাছে এসেছে। খোঁজ খবর নিয়েছে। আমরা যেন পরিবার আর সন্তানের পরশ পেয়েছি। আল্লাহ, ঈশ্বর যেন এদের ভাল করে।
গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়াল বলেন, ছাত্রলীগ শুধু রাজনৈতিক দল নয়। ছাত্রলীগ সাধারন মানুষের আস্থার স্থল। ঈদে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিতরা যে মনে করতে না পারে তাদের কেউ নেই। তাই আমরা এবারের ঈদ আশ্রিত মা-বাবাদের সাথে কাটালাম।
গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্লা বলেন, এ বৃদ্ধাশ্রমে হিন্দু ও মুসলমান সব ধর্মের লোক রয়েছেন। ধর্মীয় অসাম্প্রদায়িকতার একটি বড় উদাহনর। এখানে সবাই একটি পরিবারের সদস্য হয়ে বসবাস করনে। ধর্মের কোন বিভেদ তাদের বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেনি। শুধু ঈদ নয় সব সময় আশ্রিত মা-বাবাদের পাশে থাকবে ছাত্রলীগ।
হাইশুর বৃদ্ধাশ্রমের তত্ত্বাবধায়ক আশুতোষ বিশ্বাস বলেন, আমার এখানে এখন ২২ জন মা বাব আশ্রিত রয়েছেন। বিভিন্ন জনের কাছে থেকে এক বেলার খাবার যোগার করে তাদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছি। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আজ পরিবার সন্তানহীন মা-বাবার সাথে ঈদ উদযাপন করেছে। এতে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও দু:খ কষ্ট ভুলেছেন তারা।
এনএফ৭১/এনজেএ/২০২১
বিষয়: গোপালগঞ্জ
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।