ভারতে পালিয়ে গেলেন ওবায়দুল কাদের, গুঞ্জন নাকি সত্যি
রায়হান রাজীব | প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৩০

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ আওয়ামী দোসরদের অনেকেই দেশ ছাড়তে মরিয়া। দালাল সিন্ডিকেটের সহায়তায় কেউ কেউ ভারতে ঢুকতে কোটি টাকাও দিয়েছেন। তবে ২০ লাখের নিচে কেউ ঢুকতে পারেননি। কেউ আবার খুইয়েছেন মোটা অঙ্কের নগদ টাকা ও ডলার। কাউকে দিতে হয়েছে জীবনও। তবু ভারতে পালানোর মিছিল থামছে না। এ সুবাদে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে থাকা চিহ্নিত দালালদের পোয়াবারো।
অভিযোগ আছে, ভিআইপিদের অনেকে পার হওয়ার সময় দুদেশের প্রশাসনের লোকজনের সহায়তা নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। আওয়ামী দোসরদের সাজানো প্রশাসন হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে অনেকে তাদের নির্বিঘ্নে দেশ ছাড়তে সব ধরনের সহায়তা দিয়েছেন এবং এখনো দিচ্ছেন।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী। সে সময় গোপনে দেশ ছেড়েছিলেন আওয়ামী লীগের অনেক হেভিওয়েট নেতা। তবে সরকার পতনের আগের দিন থেকে কোথাও দেখা মিলছিল না আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের।
কেউ বলছিল তিনি দেশত্যাগ করেছেন, কেউ বলছিল তিনি দেশেই আছেন। তবে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, ওবায়দুল কাদের পাঁচ দিন আগে দেশে ছেড়েছেন। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি বুধবার মধ্যরাতে যশোর সীমান্ত হয়ে অবৈধভাবে ভারতে গেছেন। সেখান থেকে তাঁর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের যেসব নেতা পালিয়ে ভারতে যান, তাদের মধ্যে কয়েকজন গত দু’দিনে একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওবায়দুল কাদের ভারতে পৌঁছেছেন বলে তারা শুনেছেন। তবে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। টেলিফোনেও কথা হয়নি।
সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে পাসপোর্ট-ভিসা নেই। তাই বৈধভাবে তার ভারতে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ভারতে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের দাবি, গত বুধবার মধ্যরাতে অবৈধভাবে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান ওবায়দুল কাদের।
একাধিক সূত্র জানায়, ওবায়দুল কাদের আগে আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে রাজধানীর গুলশান থেকে যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকায় যান। সেখানে প্রভাবশালী এক সরকারি কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়ের শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান নিয়ে তিনি ভারতে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। যশোর যাওয়ার আগে তিনি ঢাকার গুলশানে একটি বাড়িতে আত্মগোপনে থাকেন। সেখানে আগে থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না। পরে ২৪ আগস্ট পালাতে গিয়ে পান্না ভারতীয় সীমান্তে মারা যান।
ভারতে আত্মগোপনে থাকা নেতাদের ধারণা, জটিলতা এড়াতে ওবায়দুল কাদের দিল্লিতে থাকতে পারেন। কেননা, আত্মগোপনে থাকা বেশির ভাগ নেতাই তার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তারা কলকাতায় অবস্থান করছেন। এই নেতারা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের জন্য ওবায়দুল কাদেরকেই দুষছেন। এজন্যই কলকাতায় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নেতাদের দেখা হলে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান পলাতক কয়েকজন নেতা। অবশ্য কেউ কেউ এখনও বলছেন, কয়েক দফা সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি এখনও সীমান্ত এলাকায় থেকে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের পরিদর্শক ইমতিয়াজ ভূঁইয়া জানান, গত ১৫ দিনে এই চেকপোস্ট দিয়ে কোনো ভিআইপি ভারতে গিয়েছেন ভলে তার জানা নেই। এর আগেও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত কোনো বিশেষ ব্যক্তি বেনাপোল চেকপোস্ট ব্যবহার করে ভারতে গেছেন– এমন কোনো খবরও তাদের কাছে নেই। সূত্র: সমকাল, যুগান্তর
বিষয়:
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।