‘খর্বাকৃতির কারণে স্কুলে ভর্তি নিতে চাননি শিক্ষকরা’
ডেস্ক রিপোর্ট | প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১৯:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০১৯ সালের আজকের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের গুনী নির্মাতা, অভিনেতা ও লেখক হুমায়ূন কবীর সাধু । মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর তিনি মারা যান।
তার মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে স্মরণ করে ফেসবুকে স্মৃতিচারণ করেছেন তার বন্ধু ও শোবিজের ঘনিষ্ঠজনেরা। অবেলায় তার এমন চলে যাওয়া যেন মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজের সুবাদে অভিনয়শিল্পী হিসেবেও যাত্রা শুরু হয় তার।
হুমায়ূন সাধু অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- মেড ইন বাংলাদেশ, বিউটি সার্কাস, সাত ভাই চম্পা, চোরাবালি। এছাড়া ‘ঊন মানুষ’ নামে একটি টেলিফিল্মে অভিনয় করেন তিনি। যা বেশ দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। তার পরিচালিত নাটক হলো- চিকন পিনের চার্জার ও দরশন।
এছাড়াও রয়েছে তার সিরিজ নাটক- বেঁচে থাকার জন্য আমি, পাখি পাকা পেপে খায়। তার টেলিফিল্ম- সিজোফ্রেনিয়া ও অ-মানুষিক। শর্টফিল্ম- গড ভার্সেস গড ও গুঞ্জন। প্রথম চলচ্চিত্র হোমো-সেপিয়েন্স (অসমাপ্ত)।
‘আমার ঘরে বিরাজ করে লালনগীতি’ নামে হুমায়ূন সাধু প্রযোজিত একটি সংগীত অ্যালবাম অ্যামাজন থেকে বের হয়। ‘ননাই’ নামে ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তার প্রথম বই প্রকাশিত হয়।
চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া হুমায়ূন সাধুর প্রকৃত নাম হুমায়ূন কবীর সাধু। ৯ ভাইবোনের মধ্যে সপ্তম সন্তান হুমায়ুন কবীরের মা মরিয়ম বেগম ছিলেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
প্রকৃতির খেয়ালে কিছুটা খর্বাকৃতির কারণে সাধুর বাবা তাকে স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী ছিলেন না। এজন্য বড় বোনের কাছে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য গেলেও বিদ্যালয়টির শিক্ষকরা প্রথমে তাকে নিতে অসম্মতি জানান। পরে সাধুর ভাইয়ের অনুরোধে ভর্তি করার পর স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীর পরীক্ষার ফলাফল দেখে অবাক হন শিক্ষকরা। ১৩০ জন ছেলে-মেয়েকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অধিকার করায় প্রথমদিকে আঁড়চোখে তাকানো সহপাঠীরাও তাকে নিয়ে উল্লাসে মেতেছিলো। এমনকি তার পরিবারও এলাকার মানুষদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে।
একে একে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের বিভিন্ন পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করে সাধু ভর্তি হন বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে। একসময় ঢাকার রেলস্টেশনে কিংবা বাসস্টেশনে অসহায় জীবন কাটতো হুমায়ুন কবির সাধুর। একদিন চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে পা রাখেন বিনোদন জগতে।
এনএফ৭১/জেএস/এমকে/২০২০
বিষয়:
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।