নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যে বার্তা দিলেন মিজানুর রহমান আজহারী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩:৩২
জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ও লেখক ড. মিজানুর রহমান আজহারী নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, একটি শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য এবং সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, দেশের প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশন একত্রে কাজ করলে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও পক্ষপাতহীন আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
আজহারী ভোটকে একটি আমানত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আপনাদের আন্তরিক সদিচ্ছা আর সঠিক তৎপরতা বাংলাদেশকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে। জাতির সূর্য সন্তানদের তালিকায় আপনাদের নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে ইন শা আল্লাহ। তাই দায়িত্ব পালনে আমরা আপনাদের পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও পক্ষপাতহীন আচরণ প্রত্যাশা করি। ঐক্যবদ্ধ সবাইকে তিনি বলেন, ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে পুনরায় জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। আবারও দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার সুযোগ এসেছে ছাত্র-জনতার হাতে। নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই নয়, বরং দেশের ভবিষৎ গতিধারা নির্ধারণের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। তাই, ইতিহাসের এই মহা সন্ধিক্ষণে সচেতন ও সংযমী হওয়ার পাশাপাশি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলনে জাতিগতভাবে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, দেড় যুগ পরে আবারও তুলনামূলক ভালো নেতা বাছাই করার সুযোগ পেয়েছে সাধারণ জনতা। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চারপাশে নানান গুজব, উসকানি ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের আবহ তৈরি হতে পারে। এ কারণে আমাদেরকে প্রতিটি বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। সমাজে পারস্পরিক মতভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে তা যেন প্রতিহিংসা কিংবা রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ না নেয়। মনে রাখতে হবে, এই দেশ আমাদের সবার। তাই দেশের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বও আমাদেরই।
আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান করে মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ফলে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট হওয়া খুবই বেদনাদায়ক বাস্তবতা। আমরা যৌক্তিক আলোচনা-সমালোচনা করতেই পারি কিন্তু কাউকে অসম্মান করব না। আমরা পক্ষে-বিপক্ষে মতামত প্রদান করব তবে ভিন্নমতকে তুচ্ছজ্ঞান করব না। ক্ষুদ্র স্বার্থে বন্ধুত্বের সম্পর্ককে শত্রুতায় পরিণত করব না। মনে রাখতে হবে, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানই একটি মানবিক সমাজের মূল চালিকাশক্তি। তাই ঘৃণা নয়, ঐক্য আর ভালোবাসার শক্তিতেই আমাদের আগামীর পথচলা অব্যাহত রাখতে হবে।
দোষারোপের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে এই ইসলামিক বক্তা বলেন, সাধারণ মানুষ ট্যাগিং ও ব্যাশিং মুক্ত পরিচ্ছন্ন রাজনীতি দেখতে চায়। চেতনা বিক্রি ও দোষারোপের রাজনীতির চির অবসান চায়। রাজনীতিতে নতুনত্ব চায়। তাই রাজনীতিবিদদের উচিত— ইতিবাচক ধারায় রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনা। জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতিতে কারো জন্যই কল্যান নেই। বিভক্তির চাষ করলে দিনশেষে সবাইকে ভোগতে হবে। আপনারা প্রতিটি আসনেই গণমানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানের প্রতিযোগিতা করুন। প্রতিপক্ষকে ব্লেইম না করে, নিজেদের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরুন। জনগণ আপনাদের যোগ্যতা মূল্যায়নের ক্ষমতা রাখে। রায় দেয়ার দায়িত্ব জনগণের হাতে ছেড়ে দিন।
তিনি বলেন, ভোট একটি আমানত। কোনো বস্তুগত আমানত যেমন সততা ও জবাবদিহিতার দাবি রাখে, ভোটও তেমনই বিবেক, ন্যায়বোধ ও দায়িত্বশীল আচরণের দাবি রাখে। তাই এক টুকরো নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে সমর্থন দিন। সচেতনভাবেই আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দুআ করুন, তিনি যেন এই জাতির কান্ডারী হিসেবে এমন নেতৃত্বকে বাছাই করেন; যার হাতে এ দেশ, মাটি ও গণমানুষের নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকবে।
পরিশেষে তিনি আরও বলেন, জন সমর্থনে যারাই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পাবেন, সকলের উচিত তাদেরকে মেনে নেয়া এবং দেশ পরিচালনায় সহযোগিতা করা। সকলের সহযোগিতা ছাড়া কারো পক্ষেই সুষ্ঠুভাবে এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব নয়। নেতৃত্ব পথ দেখাতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয় ঐক্যবদ্ধ জনগণ। তাই আসুন, আমরা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিনির্মাণ করি— বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফের এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।