বৃহঃস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২

বসুন্ধরায় মব হামলায় আইনজীবী নিহত, ভাঙচুর প্রাইভেট কার

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:১১

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামের এক আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তিনি পাবনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাঈম কিবরিয়ার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলায়। তার বাবার নাম গোলাম কিবরিয়া। নাঈম দীর্ঘদিন ধরে পাবনা জেলা জজ আদালতে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন।

নিহতের খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নাঈম কিবরিয়া মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা তাকে মারধরের পাশাপাশি তিনি যে প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন সেটিও ভাঙচুর করে।

ভাটারা থানার এসআই আরিফুল ইসলাম জানান, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি প্রাইভেট কার চালাচ্ছিলেন নাঈম। এ সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রাইভেট কারটির ধাক্কা লাগে। এর পরপরই মোটরসাইকেলের চালকসহ কয়েকজন অজ্ঞাত যুবক নাঈমকে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম নাঈমকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে রাতেই পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ১০ দিন আগে নাঈম পাবনা থেকে ঢাকায় এসে পূর্বাচলে তার বাসায় উঠেছিলেন। পাবনায় ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিতে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রফিকুল বলেন, নাঈম তার এক বন্ধুর প্রাইভেট কার নিয়ে বাইরে বের হয়েছিলেন। রাতে নাঈমের মুঠোফোনে কল দিলে বসুন্ধরা এলাকার এক নিরাপত্তাকর্মী ফোন ধরেন এবং জানান, নাঈমকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ভাটারা থানা।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top