চিফ প্রসিকিউটরের পদ হারাচ্ছেন তাজুল ইসলাম, আলোচনায় যার নাম
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২০
পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর চিফ প্রসিকিউটর পদে পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন উঠেছে। বর্তমানে এ দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সরকার ভাবছে বলে আইনাঙ্গনে আলোচনা চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রসিকিউটর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাজুল ইসলামকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার পরিবর্তে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলায় গঠিত আইনজীবী দলের সদস্য ছিলেন। ওই মামলায় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দণ্ডিত হন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমে রদবদলের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানর একটি ফেসবুক পোস্টের পর আলোচনা আরও তীব্র হয়। তিনি দাবি করেন, সরকার নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাজুল ইসলামকে সরিয়ে আমিনুল ইসলামকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনার সরকার। এরপর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয়।
তার নেতৃত্বে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ এসব মামলার বিচার চলছে। তিনটি মামলায় ইতোমধ্যে রায় ঘোষণা হয়েছে। ঘোষিত রায়ে ২৬ জন দণ্ডিত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাসহ আরও দুটি মামলার রায় অপেক্ষমাণ। আগামী ৪ মার্চ রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার বিচারও চলমান রয়েছে। এসব মামলায় সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানসহ আওয়ামী লীগের একাধিক সাবেক এমপি-মন্ত্রী আসামি হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলছে এবং চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা না এলেও বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।