পলকের নির্দেশেই জুলাইয়ে বন্ধ করা হয় ইন্টারনেট: ট্রাইব্যুনালে বিটিআরসি কর্মকর্তা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১০
জুলাই–আগস্টের আন্দোলনের সময় তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের এক কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এ তথ্য জানান। মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিনি চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
মামলায় পলকের পাশাপাশি আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি পলাতক থাকায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী তার পক্ষে শুনানি করছেন।
জবানবন্দিতে ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে ফোন করেন তৎকালীন কমিশনের মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। ফোনে জানানো হয়, তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল অপারেটরদের আপস্ট্রিম বা ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
এরপর নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলার নির্দেশ দেওয়া হয় তাকে। পরে তিনি তার অফিসিয়াল নম্বর থেকে গ্রুপটি তৈরি করেন।
গ্রুপটির নাম রাখা হয় ‘১৮ জুলাই আইটিসি অপারেশনস’। এতে তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেডের খালিদ, ফাইবার অ্যাট হোমের মশিউর, নভোকমের আজিজ, বিডি লিংকের একজন প্রতিনিধি, ম্যাংগোর জাহিদ, বিটিসিএলের আনোয়ার মাসুদ এবং বিএসপিএলসির ওহাবসহ সংশ্লিষ্টরা যুক্ত ছিলেন।
গ্রুপ খোলার পর বিষয়টি মহাপরিচালককে জানালে তিনি গ্রুপ কলে অপারেটরদের আপস্ট্রিম বন্ধের সরকারি নির্দেশনা দেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা।
এরপর ওই দিনই, অর্থাৎ ১৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে অপারেটরদের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সেবা ২৩ জুলাই পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, ২৩ জুলাই আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিনিধির সঙ্গে একটি বৈঠক করেন তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলক। সেখানে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক বন্ধ রেখে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সীমিত আকারে ইন্টারনেট চালুর নির্দেশ দেন তিনি।
পরে ৩১ জুলাই বিটিআরসি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইন্টারনেট পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে সাক্ষীর জবানবন্দি এখনো শেষ না হওয়ায় শুনানি আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, মঈনুল করিম, সুলতান মাহমুদসহ অন্যরা।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।