বৃহঃস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে বিদেশে অর্থ পাচার

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র গ্রহণ

স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৪১

ছবি: সংগৃহীত

নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীকে ভুয়া ব্যবসায়ী সাজিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান শুনানি শেষে অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগপত্র গ্রহণের পাশাপাশি পলাতক সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

এর আগে গত রোববার দুদক আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী তার মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে মালিক হিসেবে দেখিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে জাল নথিপত্র তৈরি করে ইউসিবি ব্যাংকের পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়।

তদন্তে জানা গেছে, ঋণ অনুমোদনের সময় ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করা হয়। সে সময় ইউসিবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন রুখমিলা জামান।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী কার্যত ব্যাংকটির ‘ডি-ফ্যাক্টো’ চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং বোর্ড সভায় উপস্থিত থেকে ঋণ অনুমোদনে প্রভাব বিস্তার করতেন।

ঋণের ২৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের পূর্বের দায় পরিশোধে ব্যবহার করা হয়। বাকি ৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা ইউসিবি ব্যাংকের জুবিলি রোড শাখা থেকে নগদে উত্তোলন করা হয়।

দুদকের দাবি, এসব অর্থ হুন্ডি ও হাওলা প্রক্রিয়ায় প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) পাচার করা হয়। পরে সেখান থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ কেনা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, তদন্তকালে রুখমিলা জামানের গাড়িচালক ইলিয়াসের এক প্রতিবেশীর বাসা থেকে ২৩ বস্তা নথিপত্র ও আলামত উদ্ধার করা হয়। এসব নথিপত্রে বিদেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের এক হাজার ১০০টির বেশি ফ্ল্যাট ও রিয়েল এস্টেট কেনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান।

এর আগে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। তবে দুদকের দাবি, নিষেধাজ্ঞার পরও তারা বিদেশে চলে যান।

দুদকের তথ্যমতে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ৯টি দেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, দুবাইয়ে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১০টি বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াতেও তার সম্পদের সন্ধান মিলেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top