অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান বিশ্বের সেরা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষকদের তালিকায় সপ্তম
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৬
মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান আবারও স্থান করে নিয়েছেন বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের শীর্ষ তালিকায়। এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স র্যাঙ্কিং ২০২৬ অনুযায়ী, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় তিনি মালয়েশিয়ায় প্রথম, এশিয়ায় দ্বিতীয় এবং বিশ্বে সপ্তম অবস্থান অর্জন করেছেন।
তালিকাভুক্ত বিশ্বের ৩৩,৩৭১ জন বিজ্ঞানীর মধ্যে এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান অর্জন করা অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমানের গবেষণায় ধারাবাহিক সাফল্য ও স্থিতিশীল উৎকর্ষের প্রমাণ দেয়। উল্লেখযোগ্য, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও তিনি বিশ্বে সপ্তম স্থানে ছিলেন।
গবেষণার দিক থেকেও তার অবদান সুপরিচিত। স্কলারজিপিএস ২০২৫ অনুযায়ী টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি গবেষণায় তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থান অর্জন করেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের যৌথ বিশ্লেষণে প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায়ও তিনি মালয়েশিয়ার শীর্ষে ছিলেন।
শিক্ষা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন। সানওয়ে ইউনিভার্সিটি থেকে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনে উৎকর্ষতা পুরস্কার এবং শিক্ষাদানে শিক্ষার্থীদের কৃতজ্ঞতা স্বীকৃতি লাভ করেন। ২০২৫ সালের ওবাদা পুরস্কারে ‘বিশিষ্ট বিজ্ঞানী’ ক্যাটাগরিতেও সম্মানিত হন।
গবেষণার প্রভাবকে পরিমাপ করা হয় তার সাইটেশন ও এইচ-ইনডেক্স দ্বারা। গুগল স্কলারের তথ্য অনুযায়ী, তার এইচ-ইনডেক্স ১৪৫ এবং গবেষণায় সাইটেশনের সংখ্যা ৮৬ হাজারের বেশি। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ময়মনসিংহ জেলার সন্তান। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন।
তরুণ গবেষকদের উৎসাহিত করতে ২৮ বছরের গবেষণা অভিজ্ঞতা তিনি নিয়মিত অনলাইন সেমিনার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে শেয়ার করছেন। অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তাও তার অঙ্গীকারের অংশ। নিজ উদ্যোগে ১৫ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয়ে তিনি সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে একটি আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন করেছেন, যেখানে জ্বালানি প্রযুক্তি, উন্নত উপাদান, এনার্জি স্টোরেজ, সৌর শক্তি ও বিশুদ্ধ পানি উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা চলছে।
জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) সম্মাননা প্রদান করে।
অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান এই অর্জন নিয়ে বলেন,
“এই সাফল্য একক ব্যক্তির নয়; শিক্ষার্থী, গবেষণা দল, সহকর্মী, প্রতিষ্ঠান ও অর্থায়নকারী সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই অর্জন কেবল একজন গবেষকের সাফল্য নয়, মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিক অবস্থানকেও আরও দৃঢ় করেছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।