আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বড় সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০২
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশে বড় আকারের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবস।
পরবর্তী সময়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৈঠকে নির্বাচন প্রস্তুতি, সমতা ভিত্তিক মাঠ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড), গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
শফিকুল আলম আরও জানান, ইভারস আইজাবস বৈঠকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছে। এজন্য তারা বড় আকারের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আগ্রহের কারণ:
প্রেস সচিব বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাধারণত অনেক দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায় না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করায় এবার তারা বড় দল পাঠাচ্ছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রায় সাড়ে ১৬ বছরের শাসনামলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগে কখনও বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। ইভারস আইজাবস মনে করেন, আগের তিনটি সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। তবে এবার নির্বাচনের বিষয়ে সর্বত্র ইতিবাচক মনোভাব ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গণভোট ও নির্বাচন প্রক্রিয়া:
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ বা অন্যান্য দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে গণভোট বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রয়োজনীয় ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করবে।
প্রেস সচিব বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। তারা বড় রাজনৈতিক দলসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারীর সঙ্গেও কথা বলবে এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আশ্বস্ত করেছেন যে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
প্রধান উপদেষ্টা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এই ক্যামেরা কেন্দ্রীয় অ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও ঢাকার কেন্দ্র থেকে সরাসরি মনিটর করা হবে। সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে এবং দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী র্যাপিড রেসপন্স স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবে।
গণভোট প্রচারণা:
প্রেস সচিব জানিয়েছেন, শীর্ষ আইন বিশেষজ্ঞরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারের জন্য কোনো আইনগত বাধা নেই। ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নিরাপত্তা বাহিনী এসব মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে নারী ও তরুণদের মধ্যে ভোট নিয়ে উৎসাহের কারণে আসন্ন নির্বাচনে ভালো ভোটার উপস্থিতি থাকবে।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারও উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।