বৃহঃস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২

জারি ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬’

ভূমি ও কৃষিজমি অপব্যবহারে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা,

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৩

গ্রাফিক্স | নিউজফ্ল্যাশ সেভেন্টিওয়ান

রাষ্ট্রপতি গত ১৯ জানুয়ারি ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন। অধ্যাদেশটি দেশের সব জেলায় প্রযোজ্য হলেও পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি-এ প্রযোজ্য হবে না।

অপরাধ ও শাস্তি

  • জোন পরিবর্তন অনুমোদন ছাড়া: সর্বোচ্চ ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।

  • কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার: সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।

  • বাণিজ্যিক বা শিল্প স্থাপনা নির্মাণ: কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমিতে করা হলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ৪ লাখ টাকা জরিমানা।

  • টপ সয়েল, পাহাড়-টিলা বা জলাধারের মাটি ব্যবহার: ইটভাটার জন্য ক্রয়, বিক্রয়, অপসারণ বা পরিবহন করলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা।

  • বিশেষ কৃষি অঞ্চলে ভূমির ক্ষতিসাধন: সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্দিষ্ট অপরাধ: জলাধার, জলাভূমি, পাহাড়, টিলা, বন ও বনভূমির ক্ষতিসাধন ও ভূমি পরিবর্তন অ-আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য।

ভূমি জোনিং ও ম্যাপিং

সরকার ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে ১৮টি জোনে বিভক্ত ভূমি জোনিং ম্যাপ তৈরি করবে। এই ম্যাপে থাকবে কৃষি অঞ্চল, বিশেষ কৃষি অঞ্চল, নদী-খাল অঞ্চল, জলাধার-জলাভূমি অঞ্চল, শিল্প, বাণিজ্যিক, বন, পাহাড় ও টিলা, পতিত ভূমি, সাংস্কৃতিক ও সংবেদনশীল অঞ্চল ইত্যাদি।

প্রক্রিয়া:

  • খসড়া ম্যাপ প্রকাশিত হলে জনসাধারণ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে মতামত বা আপত্তি জানাতে পারবে।

  • জেলা প্রশাসক প্রধানে জেলা কমিটি আপত্তি নিষ্পত্তি করবে।

  • চূড়ান্ত ম্যাপ গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

  • প্রতি ১০ বছর অন্তর ম্যাপ হালনাগাদ করা হবে।

কৃষিভূমি সুরক্ষা ও ব্যবহার

  • বিশেষ কৃষি অঞ্চলে ভূমির ব্যবহার বা অকৃষি কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ।

  • তিন বা ততোধিক ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধ, এক ও দুই ফসলি জমিতেও ধাপে ধাপে সীমিত।

  • জাতীয় প্রয়োজনে সীমিত পরিমাণ কৃষিভূমি ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে মোট জমির ১০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করা যাবে না।

  • কৃষিভূমি, পাহাড়, টিলা, জলাধারের মাটি ক্রয়-বিক্রয়, অপসারণ বা ব্যবহার নিষিদ্ধ।

  • অনুমতি ছাড়া কৃষিভূমিতে বাস্তবায়ন, গুদাম, কুটির শিল্প বা পুকুর নির্মাণ শাস্তিযোগ্য।

সরকার উপকূলীয় ও সাগর সংলগ্ন ভূমি সুরক্ষা, পরিবেশ ও জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন প্রদান করবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top