আজ ঐতিহাসিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ মার্চ ২০২৬, ২৩:২২

ছবি: সংগৃহীত

আজ ২ মার্চ, ঐতিহাসিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর কলাভবনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি মানচিত্র খচিত সেই পতাকা উত্তোলন করেন তৎকালীন ডাকসুর সহসভাপতি আ স ম আবদুর রব।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে ওইদিন তৎকালীন ডাকসু নেতাদের আহ্বানে সাড়া দেয় সর্বস্তরের মানুষ। সকাল থেকেই দলমত নির্বিশেষে জনতা নেমে আসে রাজপথে। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা। নগরী রূপ নেয় মিছিলের শহরে।

পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি ছাত্র-জনতা স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত হয়। সেদিনের সেই সাহসী পদক্ষেপই স্বাধীন বাংলাদেশের অনিবার্যতার বার্তা দেয়। অকুতোভয় ছাত্রসমাজ পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—বাঙালি আর মাথা নত করবে না।

বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ওই পতাকা সর্বপ্রথম উত্তোলন করেন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা আ স ম আবদুর রব। ছাত্রসমাবেশে নেতৃত্ব দেন নূরে আলম সিদ্দিকী, আব্দুল কুদ্দুস মাখন, শাহজাহান সিরাজসহ অন্য নেতারা।

পরবর্তীতে ২৩ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, যা স্বাধীনতার আন্দোলনকে আরও বেগবান করে।

তৎকালীন পতাকার রূপ ছিল সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি মানচিত্র, যার নকশা করেন শিব নারায়ণ দাশ। পরে ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে বর্তমান রূপ গ্রহণ করা হয়। মানচিত্র বাদ দিয়ে সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝে লাল বৃত্ত সংযোজিত হয়। এ নকশা প্রণয়ন করেন কামরুল হাসান।

সবুজের মাঝে লাল বৃত্ত রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার সূর্যের প্রতীক। দীর্ঘ নয় মাসের ত্যাগ, তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল ২ মার্চের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top