বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

সরকারি কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি নিয়ে নতুন নির্দেশনা

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২৬, ১৪:১৫

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ২ মার্চ জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে অবস্থান করতে হবে। ২০১৯ ও ২০২১ সালের নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, সেবাগ্রহণকারী নাগরিকদের সুবিধা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং দফতরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তারা অফিসে উপস্থিত না থাকলে জনসাধারণ ও অন্যান্য দফতরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যাহত হয়। এতে নাগরিক সেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, অনেক সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসার পথে দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত কর্মসূচিতে যুক্ত থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে সেমিনার, কর্মশালা, আলোচনা সভা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ, ব্যাংক, হাসপাতাল বা বিদ্যালয়ে গমন। ফলে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে না পারায় সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ কক্ষে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দাপ্তরিক কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এ সময়সীমা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি সংক্রান্ত ২০১৯ সালের বিধিমালা এবং সচিবালয় নির্দেশমালা ২০২৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতার বিষয়টি পুনরুল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না। শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত নন এমন শিক্ষক বা অনুষদ সদস্য, হাসপাতাল, জেলখানা, সংবাদ বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পালাক্রমে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, জরুরি গ্রাহকসেবা প্রদানকারী কর্মী এবং মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এর বাইরে থাকবেন। এছাড়া অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির প্রটোকল, আকস্মিক বড় দুর্ঘটনা মোকাবিলা, উন্নয়ন সহযোগী বা কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ এবং অনুমোদিত সরকারি সফরের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টরা এ নির্দেশনার আওতার বাইরে থাকবেন।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। দাপ্তরিক প্রয়োজন ছাড়া অফিস সময়ে নিজ দফতর ত্যাগ করা যাবে না বলেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top