মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় দেশে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ, পাম্পে তেল কেনার হিড়িক
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৫
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বাংলাদেশেও। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও অনেক মানুষ আতঙ্কে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি তেল কিনছেন। একই সঙ্গে তেল পাচারের ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। আমদানিনির্ভর এই খাতকে স্বাভাবিক রাখতে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণের ফলে সংকট আরও গভীর হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জ্বালানি পাম্পে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। অনেকের আশঙ্কা, মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে। এ কারণে অনেকে তড়িঘড়ি করে পাম্পে গিয়ে গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করে নিচ্ছেন।
ক্রেতাদের ভাষ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পাম্পগুলোতে চাপ বেড়ে গেছে। অনেকেই মনে করছেন, হঠাৎ করে তেলের দাম বাড়তে পারে কিংবা সরবরাহ কমে যেতে পারে। এ আশঙ্কা থেকেই তারা আগে থেকেই ট্যাংক ভরে রাখছেন।
পাম্পে কর্মরত ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জ্বালানি তেলের চাহিদা অন্তত তিন গুণ বেড়ে গেছে। অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন। বিক্রেতাদের মতে, মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে দেশে দ্রুত তেলের সংকট দেখা দিতে পারে। এ কারণেই তারা তাড়াহুড়া করে বেশি পরিমাণ তেল কিনছেন।
জ্বালানি ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবৈধ মজুতদারি রোধে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের পরিচালক লে. কর্নেল মো. রিয়াজুল কবির জানান, বর্তমানে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেসব পাম্পের ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণ ট্যাংক রয়েছে, তারা অনেক সময় অতিরিক্ত তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে। তাই বিষয়টি সরকারের নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রায় এক লাখ ছত্রিশ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। এই মজুত মার্চ মাস পর্যন্ত চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না জ্বালানি মন্ত্রী। তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে। দেশে যে পরিমাণ তেল রয়েছে, তা সাশ্রয় করে ব্যবহার করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে যে মজুত রয়েছে, তা সাশ্রয় করে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। যুদ্ধ যতদিন চলবে, ততদিন এই চাপ থাকতে পারে। তবে বিভিন্ন উৎস থেকে তেলের সরবরাহ বাড়াতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।