জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করল সরকার
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ মার্চ ২০২৬, ২৩:৫৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশে সম্ভাব্য সংকটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে মানুষ ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছেন এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
শুক্রবার (৬ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিপিসি জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফিলিং স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি জ্বালানি তেল বিক্রি করা যাবে না।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দিনে ১০ লিটার তেল নেওয়া যাবে। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) বা জিপ এবং মাইক্রোবাস দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল পাবে। পিকআপ বা লোকাল বাস প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক প্রতিদিন ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল সংগ্রহ করতে পারবে।
বিপিসি জানিয়েছে, দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে মাঝে মাঝে আমদানি ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব বা বাধা সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে ডিলাররাও ডিপো থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সময় গ্রাহককে অবশ্যই রসিদ সংগ্রহ করতে হবে। রসিদে তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ থাকবে। পরবর্তী সময়ে আবার তেল নিতে হলে আগের কেনা তেলের রসিদ দেখাতে হবে। ডিলাররা রসিদ যাচাই করে তেল সরবরাহ করবেন। কোনো অবস্থাতেই বরাদ্দের অতিরিক্ত তেল বিক্রি করা যাবে না বলে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
বিপিসি আরও জানিয়েছে, জনগণের আতঙ্ক কমাতে বিদেশ থেকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নিয়মিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধান স্থাপনা থেকে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে নিয়মিত তেল পাঠানো হচ্ছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই দেশে পর্যাপ্ত বাফার স্টক গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার ছুটির দিনেও উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। পরীবাগে মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল হয়ে শাহবাগ মেট্রোরেলের নিচ পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে দুপুরের দিকে কয়েকজন মোটরসাইকেল চালকের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেকেই অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।