সড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণে ‘জাদুর কাঠি’ ট্রাফিক পুলিশের হাতে
আমিনুল ইসলাম | প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৪৪
একসময় রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক বিজয় সরণি চত্বরে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে পুরোপুরি নির্ভর করতে হতো হাতের ইশারার ওপর। ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হতো তীব্র যানজট, চরম ভোগান্তিতে পড়তেন সাধারণ মানুষ। নষ্ট হতো মূল্যবান সময়, ব্যাহত হতো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। এমনকি জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ত দীর্ঘ জ্যামে।
স্থানীয়দের মতে, আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে থাকতে হতো। অফিসগামী মানুষ নিয়মিত দেরিতে পৌঁছাতেন, শিক্ষার্থীদেরও ভোগান্তির শেষ ছিল না।
তবে সময়ের সঙ্গে বদল এসেছে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়। এখন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। এতে যানবাহন চলাচলে এসেছে শৃঙ্খলা, কমেছে দীর্ঘসূত্রিতা।
বর্তমানে আর আগের মতো দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। কয়েক মিনিট অপেক্ষার মধ্যেই পার হওয়া যাচ্ছে ব্যস্ত মোড়গুলো—যা আগে ছিল অকল্পনীয়।
নগরবাসীর ভাষ্য, নতুন এই ব্যবস্থায় অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে। যাতায়াতে সময় কম লাগছে, মানসিক চাপও কমেছে।
এদিকে, রাজধানীর যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সড়কে প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভিআইপি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নিজেও সাধারণ মানুষের মতো নিয়ম মেনে সড়কে চলাচল করছেন—যা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, ধাপে ধাপে রাজধানীর সব গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে যানজট আরও সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি আধুনিক ও যানজটমুক্ত ঢাকা গড়ে তুলতে কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কার্যকর বাস্তবায়ন ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে সড়কের এই দীর্ঘদিনের দুঃস্বপ্ন দূর করা সম্ভব।
যানজট নিরসন সম্ভব হলে তা হবে দেশের জন্য একটি যুগান্তকারী উন্নয়ন, যা নগরজীবনে আনবে স্বস্তি ও গতিশীলতা।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।