বৃহঃস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

ভাস্কর শামীম শিকদার ছিলেন নিখুঁত আইকনোক্লাস্ট, গুণীকে ভোলা যায় না...

রাজিউর রাহমান | প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৩, ০০:০৫

শামীম শিকদার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে “স্বোপার্জিত স্বাধীনতা” ভাস্কর্যের স্রষ্টা শামীম শিকদার মারা গেছেন। তিনি একুশে পদক জয়ী ভাস্কর। তার অনেক সৃষ্টিকর্ম, অনেক ছাত্র; ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক। শিল্পী শামীম শিকদারের সাহসী জীবনধারার প্রতি আমার শ্রদ্ধামিশ্রিত কৌতুহল ছিল। আরেকটি কারণে কৌতুহল ছিল, হয়তো তা অনুচিত কৌতুহল, তিনি ছিলেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট নেতা সিরাজ সিকদারের ছোট বোন। প্রয়াত শামিম শিকদারের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রবীণ সাংবাদিক শামসুদ্দিন পেয়ারার লেখাটি এখানে উপস্থাপন করছি।

পেয়ারা ভাই লিখেছেন:
১৯৬০-এর দশকে ঢাকা শহরে একটা মেয়েই ছিল যে শার্টপ্যান্ট পরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একা সাইকেলে ঘুরে বেড়াতো। প্রকাশ্যে সিগারেট খাবার ধৃষ্টতা দেখাতে পারতো। তখন সে স্কুলের ছাত্রী‌। দশকের শেষের দিকে সে যখন চারুকলায় ঢুকলো তখন শরীফ মিয়ায় ও লাইব্রেরির বারান্দায় বসে ছেলেদের সাথে কষে আড্ডা দিতে পারতো। চাপনিতে বসে কল্কি ফাটানো গাঁজার টান‍ও দিতো। এক কথায় বলা যায় a perfect iconoclast! আমরা তার admirer ছিলাম। সব সময় শাদা শার্টপ্যান্ট পরতো। হালকা লালচে দীর্ঘ খোলা স্ট্রেইট চুল পিঠের উপর ছড়িয়ে থাকতো। কখনো বাতাসে উড়তো। চেহারায় একটু রুক্ষতা কি ছিলো? হয়তোবা। তবে আচার আচরণে ছিল পরম বন্ধুবৎসল, চরম দিলখোলা। একেবারেই ড্যামকেয়ার। মাঝে মাঝে জোরে হেসে উঠে সবাইকে চমকে দিতো।

আমাদের দু'একজন বন্ধুর খুব ভাল বন্ধু ছিল সে। ওরা এসে শামীম সম্পর্কে নানা গল্প করতো। আমরা হা করে শুনতাম আর গোগ্রাসে গিলতাম। ওদের মাধ্যমে কোনো এক সময়ে শামীমের সাথে আমাদের‌ও বেশ ভালোই পরিচয় হয়।

শামীম কারাতে কুংফু জুডো জানতো। এক দুপুরে ও এস‌এম হলের সামনে দিয়ে সাইকেলে পলাশির দিকে যাচ্ছিল। ১৯৬৮ কি '৬৯ হবে হয়তো। দু'জন কেরানিগোছের লোক ওকে কিছু একটা টিটকিরি দিয়েছিল। ওর দিকে তাকিয়ে বুঝি বা বক্র হেসেছিল। আর যায় কোথা। আমার চোখের সামনেই দেখলাম ও সাইকেলটা ঘুরিয়ে লোক দুটোর সামনে এসে সাইকেল থেকে নামলো। দু'জনকে ইচ্ছামতো চড় থাপ্পড় লাথি আর গুষ্ঠি উদ্ধার করা গালাগাল দিয়ে সাইকেলে ঘুরিয়ে পলাশির দিকে চলে গেল। সেদিনের সেই দুপুরে শামীম শিকদারকে আমার কাছে জোঅন অব আর্ক বলে মনে হয়েছিল।

শামীম শিকদারের জীবনাবসান হয়েছে বলে ফেসবুক থেকে এইমাত্র জানতে পারলাম। সে সময়ের মানুষদের স্মৃতিতে শামীম আরো অনেক বছর বেঁচে থাকবে। শামীম শিকদার, তোমাকে ভোলা যায় না। (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত, উপস্থাপন করেছেন সাংবাদিক পুলক ঘটক)




পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top