আজ চিত্রনায়ক জাফর ইকবালের মৃত্যুবার্ষিকী
বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:২৩
আজ চিত্রনায়ক জাফর ইকবালের মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন তাঁর সহশিল্পীরা। তাঁদের স্মৃতিচারণায় বারবার উঠে আসছে একজন অসাধারণ মানুষ, মানবিক সহকর্মী ও চিরসবুজ নায়কের কথা।
নায়ক হিসেবে জাফর ইকবাল যেমন দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন, সহশিল্পী হিসেবেও ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, মার্জিত ও সহানুভূতিশীল। একসঙ্গে প্রায় চল্লিশটির মতো সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা থেকে সহকর্মীরা জানান, প্রতিটি কাজেই তিনি ছিলেন পেশাদার ও দায়িত্বশীল। তাঁদের গড়া জুটি দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, যা আজও মানুষ মনে রেখেছে।
জাফর ইকবালের সহজাত সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব পর্দা ছাড়িয়েও মানুষকে আপন করে নিত। তিনি ছিলেন সুদর্শন, গিটার হাতে গান গাইতে পারতেন অনায়াসে। শুটিংয়ের ফাঁকে কখনও ইংরেজি, কখনও বাংলা গান গেয়ে পুরো সেট মাতিয়ে রাখতেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনও তা কাজে প্রভাব ফেলতে দেননি। হাসিমুখে কাজ করে যেতেন, যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।
তাঁদের অভিনীত ‘অবুঝ হৃদয়’ সিনেমাটি ছিল সুপার হিট। ব্যাংককে শুটিং হওয়া এই ত্রিভুজ প্রেমের গল্পে অভিনয় করেছিলেন চম্পাও। শুটিংয়ের সময় ছিল অজস্র হাসি-ঠাট্টা, আর সিনেমাটি আজও টেলিভিশনে প্রচার হলে দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখে।
জাফর ইকবালের অভিনয়, সংলাপ বলার ধরন এবং চোখের ভাষা আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। তাঁর সঙ্গে প্রথম ছবি ছিল ‘মামা ভাগ্নে’। এরপর ‘হারজিৎ’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁদের জুটি দর্শকদের ভালোবাসা পায়। সেই সময়ের গানগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
ব্যক্তিগত জীবনে জাফর ইকবাল ছিলেন সংযমী। কারও নামে বদনাম করা কিংবা দুর্ব্যবহার করতে তাঁকে কখনও দেখা যায়নি। আলোড়ন বা বিতর্ক তিনি পছন্দ করতেন না—কাজই ছিল তাঁর একমাত্র পরিচয়। পর্দায় রোমান্টিক নায়ক হলেও বাস্তবে ছিলেন দায়িত্বশীল ও আদর্শ সহকর্মী।
মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করতে গিয়ে সহকর্মীরা বলেন, তিনি নেই, কিন্তু তাঁর হাসি, গান, অভিনয় ও মানবিকতা আজও আমাদের সঙ্গে বেঁচে আছে। দর্শকের ভালোবাসা তাঁকে যে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল, তা খুব কম শিল্পীর ভাগ্যে জোটে।
সময় ও প্রজন্ম বদলালেও কিছু স্মৃতি অমলিন থাকে। জাফর ইকবালের নাম উচ্চারিত হলেই সেই স্মৃতিগুলো নতুন করে জেগে ওঠে। তাই তাঁর চলে যাওয়ার দিনে শুধু শোক নয়, কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করছেন সহকর্মীরা। তাঁদের ভাষায়, জাফর ইকবাল শিখিয়েছেন ভদ্রতা, পেশাদারিত্ব ও শিল্পের প্রতি সততা—যা আগামী দিনেও পথ দেখাবে নিঃশব্দে।
বাংলাদেশি সিনেমার ইতিহাসে জাফর ইকবাল এক অবিচ্ছেদ্য নাম। এই সত্য আজও অস্বীকার করার উপায় নেই।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।