বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

বিচার বিভাগ থেকে দুর্নীতি নির্মূলে শুদ্ধি অভিযানের আহ্বান

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:০৩

সংগৃহীত

শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সব স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন দুর্নীতি, যার বিষবাষ্প বিচারকার্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও আক্রান্ত করেছে। জাতি প্রত্যাশা করে, বিচার বিভাগ সব ধরনের সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিমুক্ত হবে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) আপিল বিভাগের এজলাসে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির যৌথ উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল তার বক্তব্যে বলেন, অর্থনৈতিক দুর্নীতির পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি আরও ভয়াবহ। তিনি উল্লেখ করেন, “বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি ডিনামাইটের চেয়েও ধ্বংসাত্মক, অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ এবং ক্যানসারের চেয়েও মরণঘাতি। সুতরাং শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সব স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে।” তিনি উচ্চ ও নিম্ন আদালতসহ বিচার বিভাগের সব কর্মকর্তাকে এ চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

বিগত পনেরো বছরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আরশাদুর রউফ বলেন, অতীতে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে নির্যাতিত মানুষের পরিবর্তে অবিচারই প্রাধান্য পেয়েছে। তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সফল বিপ্লবের পর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশের প্রথম প্রতিশ্রুতিই হলো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বিচার ব্যবস্থা। স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এটিই হবে প্রথম সিঁড়ি।” একই সঙ্গে তিনি স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর নিয়ন্ত্রণ ও অভিভাবকত্বের গুরুদায়িত্ব এখন প্রধান বিচারপতির কাঁধে। বিচারকদের মানসিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই এখন বড় কাজ।

মামলাজট প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে আপিল বিভাগে ৩৯ হাজার ৪১৭টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮২টি মামলা বিচারাধীন। এই বিপুল মামলাজট বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ও আস্থাহীনতা তৈরি করতে পারে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির ওপর জোর দেন। এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, “একই সঙ্গে ‘জাস্টিস হারিড, জাস্টিস বারিড’—এই বিষয়েও আমাদের সজাগ থাকতে হবে।”

বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি নৈতিক মান, সততা ও সাহসিকতাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর অধীন গঠিত ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ এ ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

বক্তব্যের শেষে পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার একটি আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “যখন তুমি বিচার কর, তখন তাদের মধ্যে ন্যায়ের সঙ্গে ফায়সালা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়নিষ্ঠদের ভালোবাসেন।” তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগ তার হারানো গৌরব ও মর্যাদা ফিরে পাবে এবং আর কখনো স্বার্থান্বেষী মহলের কেন্দ্রে পরিণত হবে না।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top