সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

কায়রো ভ্রমণ: পিরামিড ও স্ফিংসের সাক্ষী হয়ে অভিজ্ঞতা

ভ্রমণ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২৬, ১২:৩২

ছবি: সংগৃহীত

পিরামিড—এক নাম যা আমরা স্কুলজীবন থেকেই শুনে এসেছি, দেখেছি ছবিতে, কিন্তু বাস্তবে দেখা সম্ভব কিনা, তা কল্পনাই করা যেত না।

ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে কায়রো বিমানবন্দর থেকে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। তবে ইজিপ্ট এয়ার-এর টিকিট থাকায় আমাদের ‘ওকে টু বোর্ড’ করা হয়েছিল। বাইরে এসে আমাদের গাইডের সঙ্গে দেখা হয়—বাংলাদেশি এক ছাত্র, যিনি কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন এবং বিশেষ অনুরোধে আমাদের সাহায্য করছেন।

আমাদের ১৬ সদস্যের দল গিজার একটি হোটেলে রুম নিয়ে বিশ্রাম নিল। হোটেল থেকে মিউজিয়ামের বিশাল স্থাপনা এবং রাতের পিরামিড দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল।

সকালে উজ্জ্বল রোদে আমরা গিজা পিরামিড কমপ্লেক্সে প্রবেশ করি। প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে যাওয়ার জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসের ব্যবস্থা আছে। কমপ্লেক্স সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে, তবে বিকেল ৪টার পর আর প্রবেশ করা যায় না।

৩টি প্রধান পিরামিডের মধ্যে কাফ্রের পিরামিড ৪৪৮ ফুট উচ্চতায় সবচেয়ে বড় এবং এর ওপরের অংশে এখনও লাইমস্টোনের আস্তর দেখা যায়। পিরামিডের ভেতরে ঢোকার জন্য আলাদা টিকিট লাগবে—কুফু (১,৫০০ মিসরীয় পাউন্ড), কাফ্রে (২৮০ মিসরীয় পাউন্ড) এবং মেনকাউর (২০০ মিসরীয় পাউন্ড)।

পিরামিডের সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে নির্মিত স্ফিংস পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে তাকিয়ে রয়েছে। কথিত আছে, এর নাক নেপোলিয়নের সেনাবাহিনীর গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

পিরামিড কমপ্লেক্স পরিদর্শনের পর আমরা নীল নদে নৌভ্রমণে যাই। ৬,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী ১১টি দেশ অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে মিলিত হয়। এটি মানব সভ্যতার ইতিহাসে কৃষি, সেচ ও যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সন্ধ্যায় আমরা আবার পিরামিড কমপ্লেক্সে যাই এবং এক হাজার মিসরীয় পাউন্ডের টিকিটে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো উপভোগ করি। হাড় হিম করা ঠান্ডায় স্ফিংসের সামনে বসে পিরামিডের ইতিহাস আলোকিত দৃশ্যের সঙ্গে দেখা একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে রইল।

পিরামিড কমপ্লেক্সকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, এই লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো দর্শকদের জন্য চমকপ্রদ ছিল।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top