সুপার কাপ ফাইনালেই আলোনসোর ভবিষ্যৎ? বার্সার বিপক্ষে রিয়ালের বাঁচা–মরার লড়াই
স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:১৪
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অস্থির সময় পার করছে রিয়াল মাদ্রিদ। এরই মাঝে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপিয়ান জায়ান্টরা। বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১টায় জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি রিয়াল কোচ শাবি আলোনসোর জন্য হয়ে উঠতে পারে বাঁচা–মরার লড়াই।
খারাপ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় চাকরি হারানোর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন আলোনসো। তবে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। এর মধ্যে সর্বশেষ জয়টি আসে বৃহস্পতিবার, সুপার কাপের সেমিফাইনালে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনাকে হারাতে পারলে আলোনসোর জন্য মুক্তির পথ খুলে যেতে পারে। গত বছর জেদ্দার ফাইনালে বার্সার কাছেই ৫–২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল রিয়াল। এবার সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ তাদের সামনে। সফল হলে রিয়ালের কোচ হিসেবে এটিই হবে আলোনসোর প্রথম শিরোপা।
বার্সেলোনার বিপক্ষে দুই ম্যাচে টানা দ্বিতীয় জয় আলোনসোকে দেবে সময় ও স্বস্তি। তবে হান্সি ফ্লিকের দলের কাছে হারলে, জুনে নিয়োগ পাওয়া এই কোচকে বরখাস্ত করার জন্য রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ আরও একটি অজুহাত পেয়ে যাবেন। আলোনসোকে নিয়ে পেরেজ কখনোই পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না বলে স্প্যানিশ গণমাধ্যমের দাবি।
এর আগে ১০ ডিসেম্বর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হারলে আলোনসোকে বরখাস্ত করা হবে—এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। ম্যাচটি হারলেও দলের উন্নত পারফরম্যান্স আপাতত কোচকে আরও একটি সুযোগ এনে দেয়।
অন্যদিকে, গত মৌসুমে সুপার কাপ জয় বার্সেলোনার জন্য কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় তারা জেতে লা লিগা ও কোপা দেল রে। পরিসংখ্যান বলছে, আগের তিন মৌসুমেও সুপার কাপজয়ী দল পরবর্তী সময়ে লিগ শিরোপার স্বাদ পেয়েছে।
আলোনসো বলেন,
“আমরা এখন যে টুর্নামেন্টে খেলছি, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে পুরো মৌসুমের অগ্রাধিকার তালিকায় এটি চতুর্থ।”
ফাইনালের আগে আলোনসোর বড় স্বস্তির নাম কিলিয়ান এমবাপে। হাঁটুর চোটে সবশেষ দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি ফরাসি সুপারস্টার। তবে বার্সেলোনার বিপক্ষে তার শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি কোচ।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ ম্যাচে ২৯ গোল করা এমবাপে এই মৌসুমে রিয়ালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর বার্সেলোনার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচে তার গোল ছয়টি।
তবে এমবাপের প্রত্যাবর্তন আলোনসোর জন্য কিছুটা কৌশলগত জটিলতাও তৈরি করতে পারে। কারণ এমবাপে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও জুড বেলিংহাম একসঙ্গে খেললে দল সব সময় সেরা ছন্দে থাকে না।
সাম্প্রতিক সময়ে আলোনসোর জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন রদ্রিগো গোয়েৎস। দীর্ঘ ৩২ ম্যাচ গোলহীন থাকার পর শেষ পাঁচ ম্যাচে তিন গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করে দুর্দান্তভাবে ফিরেছেন তিনি।
অন্যদিকে ভিনিসিয়াস জুনিয়র ভুগছেন চরম ফর্মহীনতায়। ২০২৪ ব্যালন ডি’অর র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় হওয়ার পর থেকে রিয়ালের হয়ে শেষ ১৬ ম্যাচে কোনো গোল পাননি এই ব্রাজিলিয়ান। ফলে বার্সেলোনার বিপক্ষে তাকে খেলানো হবে কি না—সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আলোনসোকেই।
গত মৌসুমে চার দেখায় চারবারই রিয়ালকে হারিয়েছিল বার্সেলোনা। তবে চলতি মৌসুমে অক্টোবরে লা লিগায় বার্সাকে ২–১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস পেয়েছে আলোনসোর রিয়াল। এবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেই বদলে যেতে পারে কোচের ভাগ্য।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।