টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর কঠোর পদক্ষেপ, খেলোয়াড়দের ৫০ লাখ রুপি জরিমানা
স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২৬, ১২:২৪
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর কঠোর অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫০ লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে।
বোর্ড কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে পুরস্কার ও আর্থিক সুবিধা পুরোপুরি মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে। শুধু নাম বা অতীত সুনামের ভিত্তিতে কোনো সুবিধা মিলবে না। ভালো খেললে বোনাস, খারাপ খেললে শাস্তি—এই নীতিই অনুসরণ করবে বোর্ড।
পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু থেকেই ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অল্পের জন্য হার এড়ায় দল। পরে যুক্তরাষ্ট্রকে হারালেও ভারতের বিপক্ষে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এশিয়া কাপে দেখা পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটে, ফলে হারের মুখ দেখতে হয়।
নামিবিয়ার বিপক্ষে জয় পেয়ে সুপার এইটে উঠলেও সেখানেই থমকে যায় যাত্রা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। ইংল্যান্ডের কাছে হেরে অন্য দলের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতলেও নেট রান রেট বাড়াতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে ওঠে, আর সেখানেই শেষ হয় পাকিস্তানের বিশ্বকাপ মিশন।
২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তি কার্যকর হয়েছে। এতে কোনো খেলোয়াড়কে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়নি। এ ক্যাটাগরি (শূন্য): মাসিক ৪৫ লাখ রুপি + আইসিসি আয়ের অংশ ২০ লাখ ৭০ হাজার রুপি বি ক্যাটাগরি: মাসিক ৩০ লাখ রুপি + আইসিসি অংশ ১৫ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ রুপি সি ক্যাটাগরি: মাসিক ১০ লাখ রুপি + আইসিসি অংশ ১০ লাখ ৩৫ হাজার রুপি ডি ক্যাটাগরি: মাসিক ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি + আইসিসি অংশ ৫ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ রুপি
ম্যাচ ফি এর বাইরে দেওয়া হবে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে কারা এগিয়ে, কারা পিছিয়ে
ব্যাট হাতে ফারহান ছিলেন দলের সেরা রান সংগ্রাহক; তিনি করেন ৩৮৩ রান। অন্যদিকে সাইম আইয়ুব, সালমান আলি আগা, বাবর আজম ও উসমান খান—কেউই ১০০ রানের ঘর ছুঁতে পারেননি।
বোলিংয়ে স্পিনার উসমান তারিক ১০ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন। বাকিদের পারফরম্যান্স ছিল গড়পড়তা।
দলের দিকনির্দেশনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রধান কোচ মাইক হেসন দলের ভেতরে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখছেন। অধিনায়ক সালমান আলি আগার নেতৃত্ব নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। শাদাব খান থিংক ট্যাংকের অংশ হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপের আগে ফখর জামানকে জানানো হয়েছিল যে তিনি শুরুর ম্যাচগুলোতে খেলবেন না। পরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নেমে ২০০ স্ট্রাইক রেটে ৮৪ রান করেন। এতে শুরুতেই দল কী হারিয়েছে, তা স্পষ্ট হয়—তবে তখন অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে।
বাবর আজম প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি। অধিনায়ক সালমান আলি আগাও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকেট মহলে।
বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ। এখন পারফরম্যান্স পর্যালোচনায় বসবে বোর্ড। সমর্থকদের হতাশা বিবেচনায় নিয়ে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কর্মকর্তারা।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।