প্রতিভা বিকাশে নতুন দিগন্ত খুলছে হরিয়ান ফুটবল একাডেমী
মিঠু মুরাদ | প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৮
রাজশাহীর মাটিতে নীরবে গড়ে উঠছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ফুটবল তারকারা। প্রতিভা খুঁজে বের করা, সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে হরিয়ান ফুটবল একাডেমী। ইতোমধ্যেই এই একাডেমী থেকে উঠে এসে দেশের বয়সভিত্তিক জাতীয় দল ও শীর্ষ লিগে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন একাধিক ফুটবলার।
বাংলাদেশের ফুটবলে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় তৈরির উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বয়সভিত্তিক (অনূর্ধ্ব ৮, ১০, ১২ ও ১৪) হরিয়ান ফুটবল একাডেমী। প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই একাডেমীটি প্রশংসা অর্জন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে এক তারকা এবং ২০২২ সালে দুই তারকা স্বীকৃতি লাভ করে এই একাডেমী।
শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে প্রতিভা তৈরি করে আসছে হরিয়ান ফুটবল একাডেমী। ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২৩ এবং সিনিয়র জাতীয় দলের বিভিন্ন কার্যক্রমে এই একাডেমীর ফুটবলাররা অংশগ্রহণ করেছেন।
শুধু জাতীয় দল নয়, দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক লিগেও এই একাডেমীর ফুটবলাররা নিয়মিত খেলছেন। অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ লিগ, ঢাকা পাইওনিয়ার লীগ, তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ, প্রথম বিভাগ, বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লীগ এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন তারা। বর্তমানে এই একাডেমী থেকে উঠে আসা ছয়জন প্রতিভাবান ফুটবলার বিশেষভাবে সবার নজর কেড়েছেন।

মিঠু চৌধুরী
সেন্টার ব্যাক পজিশনের এই ফুটবলার হরিয়ান ফুটবল একাডেমী থেকেই তাঁর ফুটবল যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার। ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তিনি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে খেলেছেন। ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ এবং পরে অনূর্ধ্ব-২৩ দলে সুযোগ পান। বর্তমানে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ফর্টিস ক্লাবের হয়ে দেশের শীর্ষ লিগে খেলছেন।

জয় আহমেদ
রাইট উইং পজিশনের এই গতিময় ফুটবলার আক্রমণাত্মক খেলায় পরিচিত। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ২০২৩ সালে অনূর্ধ্ব-১৬, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ এবং ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে শীর্ষ লিগে খেলছেন।

নাহিদুল ইসলাম শাওন
গোলরক্ষক হিসেবে দুর্দান্ত রিফ্লেক্স ও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সের জন্য ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছেন। ২০২৩ সালে অনূর্ধ্ব-১৬, ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ এবং ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির হয়ে শীর্ষ লিগে খেলছেন।

আকাশ আহমেদ
সেন্টার মিডফিল্ড পজিশনের এই ফুটবলার বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে দক্ষ। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে ঢাকা ওয়ান্ডার্স ক্লাবের হয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লীগে খেলছেন।

রুহুল আমিন আকাশ
লেফট উইং পজিশনের এই ফুটবলার গতিময় আক্রমণ ও ড্রিবলিং দক্ষতার জন্য পরিচিত। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন এবং বর্তমানে দলের নিয়মিত সদস্য। ২০২৪-২৫ মৌসুমে তিনি বাফুফে এলিট একাডেমীর হয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লীগে অংশ নেন।
.jpg)
মেজবাহুল হক জিসান
প্রতিভাবান এই গোলরক্ষক বর্তমানে ফকিরাপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবের হয়ে দেশের শীর্ষ লিগে খেলছেন। এর আগে ২০২৪-২৫ মৌসুমে অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল লীগে বাংলাদেশ পুলিশ ক্লাবের হয়ে খেলেছিলেন।
বর্তমানে এই ছয়জন ফুটবলার দেশের বয়সভিত্তিক জাতীয় দল এবং বিভিন্ন শীর্ষ লিগে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে নিজেদের প্রতিভা প্রমাণ করে চলেছেন।

দক্ষ কোচিং স্টাফ
একাডেমীর খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন অভিজ্ঞ কোচরা।, শহিদুজ্জামান কামাল এএফসি ‘বি’ ডিপ্লোমা, জাহিদুল ইসলাম নয়ন, এএফসি ‘সি’ ডিপ্লোমা, মামুন হোসেন ‘ডি’ কোচিং কোর্স, সোহাগ হোসেন পলাশ গোলরক্ষক প্রশিক্ষক, এএফসি ‘সি’।
ভবিষ্যতের লক্ষ্য
নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরিকল্পিত অনুশীলন এবং প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে হরিয়ান ফুটবল একাডেমী ধীরে ধীরে বাংলাদেশের ফুটবলার তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, খুব শিগগিরই এই একাডেমী থেকেই উঠে আসবে নতুন প্রজন্মের আরও অনেক তারকা ফুটবলার, যারা একদিন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।