কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণ
মার্কিন হামলার নিন্দায় ভেনেজুয়েলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৪২
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন স্থানে একযোগে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনকে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানিয়ে দেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তিনি বলেন, এই হামলা ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
কারাকাসে যেসব এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাও রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সামরিক বিমানঘাঁটি লা কার্লোটা এবং প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উভয় স্থানের বিস্ফোরণের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিস্ফোরণের পর পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে শহরের আকাশে সামরিক বিমান উড়তে দেখা গেছে—এমন অনিশ্চিত তথ্যও পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সিবিএস নিউজ স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, শনিবার ভোরে কারাকাসে বিস্ফোরণ ও বিমান চলাচলের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার নির্দেশ দেন।
এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা চরমে। ওয়াশিংটন ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে স্পিডবোট লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অবৈধভাবে ক্ষমতায় রয়েছেন এবং তিনি দেশজুড়ে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে ট্রাম্পের দাবি, মাদুরো মাদক পাচার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছেন।
ভেনেজুয়েলা সরকার বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ—যার মধ্যে নিষিদ্ধ তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করাও রয়েছে—প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশের তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে ভেনেজুয়েলা সরকার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে,
‘ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দ্বারা সংঘটিত এই অত্যন্ত গুরুতর সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে আমরা প্রত্যাখ্যান, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কারাকাসে হামলার লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার কৌশলগত সম্পদ—বিশেষ করে তেল ও খনিজ—দখল করা এবং দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে জোরপূর্বক ভেঙে দেওয়া।
প্রেসিডেন্ট মাদুরো জাতীয় ভূখণ্ডে বহিঃসংকট ঘোষণা করে একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং সব জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের সব সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে ‘সক্রিয় মোবিলাইজেশন পরিকল্পনা’ চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মাদুরো বলেন, মাদক পাচার ও তেল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘যেখানেই ও যখনই তারা চায়’ আলোচনায় বসতে তিনি প্রস্তুত।
তবে ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের বিষয়ে তিনি মন্তব্য এড়িয়ে যান, যেখানে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন—যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার একটি ডকিং এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যা দেশটির ভেতরে সিআইএ পরিচালিত প্রথম হামলা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, কারাকাস—আনুষ্ঠানিকভাবে সান্তিয়াগো দে লিওন দে কারাকাস—ভেনেজুয়েলার রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। এটি ক্যারিবীয় সাগরের নিকটবর্তী উত্তরাঞ্চলে কার্ডিলেরা দে লা কোস্টা পর্বতমালার মধ্যে অবস্থিত।
সূত্র: বিবিসি
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।