রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২

ইরানে সরকার পতনের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ, গুলিতে তেহরানে নিহত দুই শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:৫৪

সংগৃহীত

ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভ গত বুধবার থেকে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে এখন সরাসরি সরকার পতনের ডাক শোনা যাচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগের দাবিতে তারা স্লোগান দিচ্ছেন— ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’।

রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ অন্তত ৩১টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এই আন্দোলন। বিভিন্ন স্থানে সরকারি ভবন ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি নিজ দেশের পতাকা ছিঁড়ে ফেলতেও দেখা গেছে বিক্ষোভকারীদের।

এ অবস্থায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা দেশে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকার আর পিছপা হবে না। এরপর দেশটির এলিট বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, চলমান পরিস্থিতি আর অব্যাহত থাকতে দেওয়া হবে না।

বিবৃতির পর বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযান শুরু করে বিপ্লবী গার্ড। সহিংস বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক গুলি চালানো হয়। এতে শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই এক রাতে দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে টাইম ম্যাগাজিন জানায়, নাম প্রকাশ না করার শর্তে তেহরানের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন— শহরের ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২০৬ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এবং তাদের অধিকাংশই তরুণ।

ওই চিকিৎসক আরও জানান, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়। সেখানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন। শুক্রবার এসব মরদেহ হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন।

বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবার কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র শত শত হাজার সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা এটিকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের সামনে ইরান কখনো মাথা নত করবে না।” তিনি বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মদদের অভিযোগও তোলেন।

এদিকে, তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা নাশকতা চালাবে বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে, তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরান সরকারকে নতুন করে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “গুলি চালানো শুরু কোরো না। যদি তা করো, আমরাও গুলি চালানো শুরু করব। আমি শুধু আশা করি, ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবে, কারণ পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক।”

সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top