বিএলও ডিউটির পাশাপাশি কুকুর গোনার নির্দেশ, ক্ষোভে শিক্ষক সমাজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:০২
জাতি ভিত্তিক জনসুমারি থেকে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে কাজ—দায়িত্বের শেষ নেই শিক্ষকদের। পড়াশোনার বাইরে একের পর এক প্রশাসনিক কাজের চাপে ক্লাসরুমে সময় দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে আরও এক দায়িত্ব চাপল তাঁদের কাঁধে—এবার গুনতে হবে পথকুকুর।
বিহারের রোহতাস জেলার সাসারাম পুরসভা থেকে জারি করা এক নির্দেশ ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ওই নির্দেশে পুরসভার আওতাধীন সমস্ত স্কুলকে নোটিস পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে হবে। যিনি স্কুল চত্বর ও আশপাশের এলাকায় থাকা পথকুকুরদের সংখ্যা, অবস্থা এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করবেন। সেই সঙ্গে কুকুর নিয়ন্ত্রণে কী কী পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে পুরসভায় জমা দিতে হবে।
পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে ডগ পাউন্ড বা পথকুকুরদের থাকার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা হবে।
তবে এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষকরা। তাঁদের অভিযোগ, এমনিতেই শিক্ষকের ঘাটতির মধ্যে পড়াশোনার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। তার উপর কখনও BLO ডিউটি, কখনও এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজ—সব মিলিয়ে মূল কাজ অর্থাৎ পড়ানোই ব্যাহত হচ্ছে। এবার আবার পথকুকুর গণনার মতো কাজ চাপানো হলে শিক্ষাব্যবস্থাই আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
শিক্ষকদের একাংশের প্রশ্ন, ‘পড়াশোনা ছেড়ে কি এবার এই সব কাজই করতে হবে?’ ছাত্র-ছাত্রীর অনুপাতে শিক্ষক সংখ্যা কম থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব আরও চাপ বাড়াচ্ছে বলেও তাঁদের মত।
অন্যদিকে, সাসারাম পুরসভার কমিশনার বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, সরকারের গাইডলাইন মেনেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে নোডাল অফিসারদের তথ্য দিতে বলা হয়েছে, যাতে স্থানীয় স্তরে পথকুকুর সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে পুরসভা প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রয়োজন ও শিক্ষকদের দায়িত্বের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।