পালমিরায় মার্কিন সেনা নিহতের জবাবে সিরিয়ায় আইএস লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৫
সিরিয়ার পালমিরা শহরে অতর্কিত হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক বেসামরিক দোভাষী নিহত হওয়ার ঘটনার জবাবে দেশটিতে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বড় পরিসরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, গ্রিনিচ মান সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিরিয়াজুড়ে আইএসের একাধিক স্থাপনায় এসব হামলা চালানো হয়।
বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়,
“আমাদের বার্তা স্পষ্ট—আমাদের যোদ্ধাদের ক্ষতি করলে আমরা আপনাদের খুঁজে বের করব এবং পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন, হত্যা করব। বিচার এড়াতে যত চেষ্টাই করুন, কোনো লাভ হবে না।”
হামলায় কেউ নিহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সেন্টকম বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত আকাশপথের ভিডিওতে গ্রামীণ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।
সেন্টকম জানায়, যৌথভাবে এসব হামলা পরিচালনা করা হয়েছে, তবে কোন কোন বাহিনী এতে অংশ নিয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি।
পালমিরায় মার্কিন সেনা হত্যার জবাবে চালানো এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’। গত ১৩ ডিসেম্বর পালমিরায় ওই হামলায় একজন বন্দুকধারী জড়িত ছিল।
এদিকে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলাকারী ব্যক্তি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন। কট্টর মতাদর্শে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল।
যুক্তরাষ্ট্র গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ শুরু করে। ওই দিন মধ্য সিরিয়ায় আইএসআইএলের অবকাঠামো ও অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে প্রায় ৭০টি স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানো হয়।
সেন্টকম জানায়, ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অভিযানে প্রায় ২৫ জন আইএসআইএল যোদ্ধাকে হত্যা বা আটক করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ায় আইএসআইএলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে ওয়াশিংটন ধীরে ধীরে দামেস্কের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে।
গত বছরের শেষ দিকে এক সমঝোতার মাধ্যমে বৈশ্বিক আইএসআইএলবিরোধী জোটে যোগ দেয় সিরিয়া। ওই সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা হোয়াইট হাউস সফর করেন।
সিরীয় কর্মকর্তারা জানান, গত মাসে দামেস্কের উপকণ্ঠ থেকে আইএসআইএলের শীর্ষ নেতা তাহা আল-জুবিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছেন। প্রথম মেয়াদে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেও শেষ পর্যন্ত কিছু সেনা দেশটিতে থেকে যায়।
বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সেনা সংখ্যা আরও কমানো হবে এবং ধাপে ধাপে দেশটিতে থাকা ঘাঁটি একটি করা হবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।