তোশাখানা–২ মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪:১১
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে তোশাখানা–২ দুর্নীতি মামলায় প্রত্যেকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে বিশেষ আদালত। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাওয়ালপিন্ডির উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন আদিয়ালা কারাগারে বিচারক শাহরুখ আরজুমান্দ এ রায় ঘোষণা করেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, রায়ে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় (বিশ্বাসভঙ্গ) ১০ বছর এবং দুর্নীতি দমন আইনের বিভিন্ন ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেকে ১ কোটি ৬৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা প্রদান করবেন। আদালত রায়ে ইমরান খানের বয়স (৭৩) এবং বুশরা বিবির নারী হওয়াকে বিবেচনা করে তুলনামূলক কম শাস্তি দিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২-বি ধারার সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।
মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ২০২১ সালে সৌদি সরকারের দেওয়া রাষ্ট্রীয় উপহার—মূল্যবান ঘড়ি, হীরার ও সোনার গয়নার সেট—তোশাখানায় জমা না দিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। মামলায় মোট ২১ জন সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আইনি বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও উপহারগুলো তোশাখানায় জমা দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বিলাল আজহার কায়ানি বলেন, গয়না সেটটির প্রকৃত মূল্য ছিল প্রায় ৭ কোটি রুপি, কিন্তু মূল্যায়ন করা হয় মাত্র ৫.৮ থেকে ৫.৯ মিলিয়ন রুপিতে।
ইমরান খান অভিযোগ অস্বীকার করে মামলা বিদ্বেষপ্রসূত ও রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত বলে দাবি করেন। তোশাখানা হলো ক্যাবিনেট ডিভিশনের অধীন একটি বিভাগ, যেখানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও কূটনীতিকদের দেওয়া উপহার সংরক্ষণ করা হয় এবং নিয়ম মেনে জমা দিলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তা পুনরায় কেনার সুযোগ থাকে।
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বুশরা বিবি এবং ইমরান খানকে জামিন দিয়েছিল। গত ডিসেম্বরে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। তবে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় চলতি বছর দণ্ডিত হওয়ায় তাঁরা আগেই কারাবন্দি ছিলেন। উভয়েরই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক মাসের বেশি সময় ধরে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে; সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর তার বোন উজমা খান তাঁকে দেখতে পান। তাঁরা জানিয়েছেন, তিনি ভালো আছেন।
জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস গত সপ্তাহে ইমরান খানের ‘অমানবিক ও মর্যাদাহানিকর’ আটক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং একাকী বন্দিত্ব দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইমরান খান ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পাকিস্তানের ১৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।