মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২

কেলেঙ্কারির জেরে পদত্যাগের মুখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:৫০

সংগৃহীত

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তার দল লেবার পার্টির একাধিক সূত্রের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কিত কূটনীতিক পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কেলেঙ্কারির কারণেই স্টারমার এখন চরম চাপের মুখে রয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলে পিটার ম্যান্ডেলসনের নাম উঠে আসে। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই কেলেঙ্কারির জেরে ইতোমধ্যেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেছেন। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টারমারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকা নিয়ে খোদ তার দল লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের মধ্যেও বিস্ময় ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে ম্যান্ডেলসনের নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছিলেন স্বয়ং কিয়ার স্টারমার। ফলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন দলীয় নেতারা। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও তার পদত্যাগ চান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে তারা সরকারের সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন, প্রয়োজনে নিজেদের পদত্যাগের হুমকি দিয়েও যেন স্টারমারের সরে যাওয়া নিশ্চিত করা হয়।

এক মন্ত্রীর উপদেষ্টার বরাতে ব্লুমবার্গ জানায়, আগামী সপ্তাহেই স্টারমারের পদত্যাগের সম্ভাবনা এখন ‘ফিফটি-ফিফটি’। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি সরকারের সাবেক ডেপুটি অ্যাঞ্জেলা রেইনারকে ফেরানোর প্রস্তাব দিতে পারেন। দক্ষিণ ইংল্যান্ডে একটি ফ্ল্যাট কেনার সময় স্ট্যাম্প শুল্ক পরিশোধ না করার অভিযোগে সৃষ্ট কেলেঙ্কারির কারণে গত সেপ্টেম্বরে মন্ত্রিসভা ত্যাগ করেছিলেন রেইনার।

এ ছাড়া জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এর আগে স্টারমার পদত্যাগ করলে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেইনার ও মিলিব্যান্ডের নাম আলোচনায় এসেছিল।

অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এবং তার ডেপুটি অ্যালিস্টেয়ার কার্নসের নাম উল্লেখ করেছে।

তবে স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ মানেই যে সঙ্গে সঙ্গে আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা নয়। বরং লেবার পার্টি নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য দলীয় ভোট আয়োজন করতে পারে, যিনি পরবর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন। ২০২২ সালে কনজারভেটিভ পার্টি একইভাবে এক বছরের মধ্যে দু’বার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করেছিল।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top