প্রথম দিনের হামলায় মোজতবা খামেনির স্ত্রীও ইন্তেকাল করেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ মার্চ ২০২৬, ১৪:২১
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত দশম দিনে গড়িয়েছে। এই বিধ্বংসী যুদ্ধের শুরুতেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যুর পর ইরানের ধর্মীয় পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে।
তেহরান সূত্রে জানা গেছে, ওই ভয়াবহ হামলায় শুধু আলী খামেনিই নন, মোজতবা খামেনির পরিবারের একাধিক সদস্যও নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন তার মা মানসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদেহ, স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ-আদেল, এক ছেলে, বোন ও ভগ্নিপতিসহ কয়েকজন নিকটাত্মীয়।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই ব্যক্তিগতভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন মোজতবা খামেনি। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি পারিবারিক শোকও তাকে সামাল দিতে হচ্ছে।
জোহরা হাদ্দাদ-আদেল কে ছিলেন
মোজতবা খামেনির স্ত্রী জোহরা খামেনি ছিলেন ইরানের প্রভাবশালী রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ গোলাম-আলী হাদ্দাদ-আদেলের কন্যা। গোলাম-আলী হাদ্দাদ-আদেল ইরানের সাবেক সংসদ স্পিকার এবং দেশটির রক্ষণশীল রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
১৯৯৯ সালে মোজতবা খামেনি ও জোহরা হাদ্দাদ-আদেলের বিয়ে হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিয়ে ইরানের দুই শক্তিশালী রক্ষণশীল পরিবারের মধ্যে কৌশলগত রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।
দৃঢ় রাজনৈতিক পটভূমি থাকা সত্ত্বেও জোহরা জনজীবন ও সংবাদমাধ্যমের আড়ালে একটি নীরব ও ব্যক্তিগত জীবনযাপন করতেন। তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খুব কম তথ্যই প্রকাশ্যে এসেছে।
ফ্রান্স ২৪ ও রয়টার্সসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম দিনের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
জোহরা ও মোজতবা খামেনির তিন সন্তান রয়েছে। ইরানের রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণির কঠোর গোপনীয়তার কারণে তাদের পরিচয় জনসম্মুখে খুব একটা প্রকাশ করা হয়নি। জনজীবনে খুব বেশি পরিচিত না হলেও, রাজনৈতিক মহলে জোহরা হাদ্দাদ-আদেলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখা হতো।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ইরানের রাজনীতিতে একটি নতুন প্রজন্মের সূচনা হতে পারে। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে এখন সবার নজর।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।