মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার প্রভাবে তেলের দাম ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় উদ্যোগ
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:০৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কৌশলগত জ্বালানি মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, কৌশলগত মজুত থেকে ছাড় করা তেলের প্রথম অংশ চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ বাজারে পৌঁছাবে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোট ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন। এর মধ্যে ৮৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের জন্য ইতোমধ্যে অনুরোধ জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
সংস্থাটি বলেছে, এই তেল সরবরাহের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ৩২টি সদস্য দেশের সম্মিলিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে মোট প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে ২০২২ সালে কৌশলগত মজুত ব্যবহার করার কারণে তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে বুধবার কেনটাকিতে এক সমাবেশে তিনি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে হুমকি মোকাবিলায় সহায়তা করবে এবং তেলের দাম কমাতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, “আমরা মাঝপথে থেমে যেতে চাই না। কাজ শেষ করতেই হবে।”
উল্লেখ্য, টেক্সাস ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ভূগর্ভে যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত তেল মজুত সংরক্ষিত রয়েছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনার পর অপরিশোধিত তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।