ইরানে হামলার জন্য মার্কিন রণতরী অগ্রসর হয়েছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৭:২৪
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের ১৫তম দিনে বড় ধরনের স্থল অভিযানের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে জাপানের ওকিনাওয়া ঘাঁটি থেকে মার্কিন মেরিন সেনাদের একটি শক্তিশালী ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
জাপানে অবস্থানরত ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি-তে করে রণক্ষেত্রের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি বিশেষায়িত অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ, যা সমুদ্রপথ থেকে সরাসরি স্থলভাগে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম নামিয়ে দিতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে প্রয়োজনে উপকূলীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করা কিংবা নির্দিষ্ট কৌশলগত স্থানে দ্রুত অভিযান চালানোর লক্ষ্যেই এই মেরিন বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন, যা সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই কূটনৈতিক অঙ্গনেও কিছু নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে অস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও এর আগে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়।
তবে পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শান্তির লক্ষ্যে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে—ইরানের সার্বভৌম অধিকারের পূর্ণ স্বীকৃতি, ভবিষ্যতে দেশটির ওপর আর কোনো হামলা না হওয়ার আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরই পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে ইরান, যা ধীরে ধীরে বড় আকারের সংঘাতে রূপ নেয়।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।