জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের দাবিতে সনাতনী শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও নিজস্ব ভিত্তিপূজা
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:০৯
বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের দাবিতে সনাতনী শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিনভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় রাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে ভিত্তিপূজার মাধ্যমে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির’ উদ্বোধন করেন।
অবস্থান কর্মসূচি দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে। পরে রাত ১১টার দিকে দেবদেবীর ছবি ও পূজাসামগ্রী নিয়ে শিক্ষার্থীরা মন্দিরের ভিত্তিপূজা সম্পন্ন করেন এবং সেখানে রাত্রিযাপনের ঘোষণা দেন।
হিসাববিজ্ঞান, তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র দাস জানান, দীর্ঘদিন ধরে মন্দির স্থাপনের দাবি জানানো হলেও প্রশাসন তা উপেক্ষা করে মন্দিরের নির্ধারিত জায়গায় শৌচাগার নির্মাণ শুরু করেছে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দির উদ্বোধন করেছেন।
দিনভর কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘মন্দির আমার অধিকার’, ‘প্রশাসন লজ্জা লজ্জা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। শ্রীচৈতন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক অজয় পাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ সনাতনী শিক্ষার্থী থাকলেও এখনও কোনো কেন্দ্রীয় মন্দির নেই। বারবার স্মারকলিপি দেওয়ার পরও দাবি বাস্তবায়ন হয়নি।
ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রিয়ন্ত স্বর্ণকার বলেন, মন্দিরের জন্য নির্ধারিত জায়গায় টয়লেট নির্মাণ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল। তাই তারা প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জকসুর নির্বাচিত নেতৃবৃন্দও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ বলেন, একটি রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধর্মের শিক্ষার্থীর ধর্মচর্চার অধিকার নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। মন্দিরের জায়গায় টয়লেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত অসংবেদনশীল।
তবে সারাদিন জকসুর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি না থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অবন্তী রায় বলেন, “প্রতিনিধিরা অন্য অনুষ্ঠানে গেলেও আমাদের আন্দোলনে কেউ পাশে দাঁড়াননি।”
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও জকসুর জিএস আব্দুল আলীম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।