ধর্ষণচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ায় প্রতিশোধ, ক্ষমা চাইতে গিয়ে দাদি-নাতনিকে খুন
পাবনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৩
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় দাদি ও নাতনিকে নৃশংস হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নিহত কিশোরীর চাচা।
গ্রেপ্তার শরীফ পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, শ্লীলতাহানির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া এবং নাতনির বাধার কারণে অপমানিত হয়ে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। নিহতরা হলেন- ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)।
জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় জামিলার বোন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জামিলার বাবা জয়নাাল খাঁ কাজের সূত্রে প্রায়ই সাভারে বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। জামিলা দাদি সুফিয়া খাতুনের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করতেন। ঘটনার সময়ও তিনি বাড়িতে ছিলেন না।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাকচালক শরীফ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি একই গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।
শরীফের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি বাজারের জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে জামিলাদের বাড়িতে যান। সে সময় সুফিয়া খাতুন বাড়িতে না থাকায় সুযোগ বুঝে জামিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে এবং চড় মারলে অপমানিত হয়ে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
পরবর্তীতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে তিনি আবারও বাড়িতে যান এবং আগের ঘটনার জন্য ক্ষমা চান। কিন্তু সুফিয়া খাতুন চিৎকার শুরু করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পাশে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে সুফিয়া খাতুন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় জামিলা চিৎকার করলে তাকেও একই ধরনের সরঞ্জাম দিয়ে মাথা ও কপালে আঘাত করেন।
পরে জামিলাকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির পাশের সরিষাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে স্বীকার করেছেন শরীফ। ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।
পরদিন সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ এবং কিছু দূরে সরিষাক্ষেতে জামিলার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করে। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শনিবার রাত ১০টার দিকে শরীফকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।