কাশিয়ানীতে বিয়ের দাবিতে গৃহবধূর অনশন, অভিযোগের প্রতিবাদে যুবকের সংবাদ সম্মেলন
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২৬, ১১:২৯
কাশিয়ানীতে বিয়ের দাবিতে এক গৃহবধূর অনশন এবং তার আনীত অভিযোগের প্রতিবাদে এক যুবকের সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন আশরাফ শেখ (২৭)। তিনি উপজেলার ব্যাসপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার হাবিবুর রহমানের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আশরাফ শেখ দাবি করেন, দুই সন্তানের জননী পলি বেগমের সঙ্গে তার কোনো প্রেম বা অনৈতিক সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আমার বসতবাড়ির পাশে মো. হাসান শেখের স্ত্রী পলি বেগম বেশ কিছুদিন ধরে আমাকে পরকিয়ার কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। আমি রাজি না হওয়ায় তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বাড়িতে এসে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন এবং লোকজন জড়ো করে আমার ও আমার পরিবারের মানহানির চেষ্টা করছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পলি বেগম এর আগেও গ্রামের কয়েকজন যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি তার একটি সরকারি চাকরি হওয়ায় সেটিকে পুঁজি করেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্মান রক্ষার্থে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন আশরাফ।
অন্যদিকে, সোমবার (২ মার্চ) রাত থেকে আশরাফের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেওয়া পলি বেগম মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, “বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আশরাফ শেখ একাধিকবার আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে। আমি বিবাহিত হওয়ায় আশরাফের পরিবার বিষয়টি মেনে নিতে না চাওয়ায় এখন সে সম্পর্ক অস্বীকার করছে। তাই আমি ন্যায্য দাবিতে অনশন করছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে একই গ্রামের হাসান শেখের সঙ্গে পলি বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। বর্তমানে তার স্বামী একটি হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় পলি বেগম আশরাফ শেখের বিরুদ্ধে কাশিয়ানী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে কাশিয়ানী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) তাজউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তদন্তের পর প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।