চট্টগ্রাম হালিশহরে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৬ জনের মৃত্যু,তদন্তে ফায়ার সার্ভিস
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২৬, ১৪:৩২
হালিশহরের হালিমা মঞ্জিলের তৃতীয় তলায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের ফায়ার সার্ভিস তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তবে ভবন মালিকের অসহযোগিতার কারণে তদন্তে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এ ঘটনায় দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত টিমের প্রধান মো. জসীম উদ্দীন জানান, ভবন মালিক তদন্তে সহায়তা করছেন না। “ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা আমরা উদ্ঘাটন করতে চাই। প্রত্যেক রুমে তল্লাশি করেছি। রেসকিউ টিম, স্পেশাল টিমসহ সবাই এখানে উপস্থিত আছেন,” তিনি বলেন।
তদন্তে সম্ভাব্য নানা কারণ বিবেচনা করা হচ্ছে। কেউ কেউ লিফট, এসি বা আইপিএস ত্রুটির সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ জানালার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত নাশকতামূলক ঘটনা ঘটানোর কথাও বলেছেন। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রান্নাঘর, গ্যাস লাইন এবং বিদ্যুতের তারসহ অন্যান্য কক্ষ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বদ্ধ পরিবেশে মিথেন গ্যাসের ঘনত্ব ৫ থেকে ১৫ শতাংশে স্পার্ক হলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, চিঠি দিয়েও মালিকপক্ষের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। কেয়ারটেকার দায়িত্বে থাকলেও সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। ভবনের নিরাপত্তা ও সেফটির বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
তদন্তের রিপোর্ট আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে হবে। এর পাশাপাশি ভবনের অনুমোদন এবং কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তা মালিকপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
ভবনের বাসিন্দারা এখনো আতঙ্কিত। পার্শ্ববর্তী ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দা বলেন, “বিকট শব্দে সব দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। ঘটনা চার-পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘটে গেছে, কাউকে বাঁচানোর সময় পাইনি। আমরা জানতে চাই, আসলে কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে।”
কেয়ারটেকার সম্রাট বলেন, “ভাঙা দরজাগুলো ঠিক করে বসিয়েছি, কারণ ভেতরে অনেক জরুরি জিনিস রয়েছে। মালিককে ফোন করলেও তিনি ধরছেন না।”
তদন্ত কমিটি আশা করছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যাবে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।