খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাঠালতলা এলাকায় অবস্থিত কুলবাড়িয়া আল-হাবীব (সঃ) নূরাণী ক্যাডেট স্কীম মাদ্রাসা বন্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি কুচক্রী মহল জমিদাতা ও সভাপতিকে উপেক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে মাদ্রাসাটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই মহলটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাওলানা মোস্তফা কামাল (হাবিব)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটি এলাকায় ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী চক্র নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অপপ্রচার চালিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলছে।
এছাড়া, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব এম আলী আহমদকেও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা এখানে নিয়মিত কিরাত ও ইসলামী শিক্ষায় অংশ নিচ্ছে। মাদ্রাসা বন্ধের কোনো ষড়যন্ত্র হলে আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো। একজন আলেমকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হেনস্তার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
এ বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোস্তফা কামাল (হাবিব) বলেন, “২০২৫ সালেও আমার বিরুদ্ধে একই ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তখন আমি ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছি। এখন আবার একটি মহল নতুন করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি কথিত এক নারীর মাধ্যমে কল রেকর্ড ব্যবহার করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কারো ব্যক্তিগত সমস্যা থাকলে সরাসরি কথা বলা উচিত, একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করা নয়।”
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেছেন, পরিচালকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে এবং সেগুলো স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।
এ পরিস্থিতিতে সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিথ্যা অপবাদ ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তারা আইনগত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।