লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের ঘটনা ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সাজু এবং আনন্দ টেলিভিশনের প্রতিনিধি আব্দুর রহিম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দইখাওয়া হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে একদল লোক সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় তাদের হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, গোতামারী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নুর ইসলাম এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা মজিবরসহ কয়েকজন মিলে এ হামলায় নেতৃত্ব দেন। ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজুকে প্রথমে মারধর করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরে ঘটনাটি ধারণ করতে গেলে অন্য সাংবাদিক আব্দুর রহিমের ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে মোবাইল ফেরত চাইলে আবারও মারধর করা হয় বলে জানা যায়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাতীবান্ধা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইলিয়াস বসুনিয়া বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নুর ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জানান, ঘটনাটি নিন্দনীয়। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।