‘ওভার নাইট ভারতের দালাল হয়ে গেছি’ সাইবার বুলিং নিয়ে ক্ষোভ আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৫৬
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ওভার নাইট আমি ভারতের দালাল হয়ে গেছি। গত ১৫ বছর আমি ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, এখন ভারতের।’ এ ধরনের অপপ্রচারকে তিনি চরম সাইবার বুলিং হিসেবে উল্লেখ করেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার আমেরিকায় বাড়ি আছে, আমার পরিবার অলরেডি আমেরিকায় চলে গেছে—এমন অপপ্রচার প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দিয়ে ছয় মাস আগে বলেছিলাম কেউ প্রমাণ দিক। আজ পর্যন্ত কেউ কিছু দেখাতে পারেনি। যেসব মিথ্যুক ও বদমাইশ এসব ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলেছে? এর চেয়ে বড় সাইবার বুলিং আর কী হতে পারে?’
তিনি বলেন, সততাকে জীবনের সবচেয়ে বড় অহংকার হিসেবে ধারণ করা একজন মানুষের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এমন ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সরকারি কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘ধরুন ১০টি বিষয়ের মধ্যে সরকার যদি ৪টি কাজ করে, অন্তত সেই ৪টির স্বীকৃতি দিন। এরপর বাকি ৬টি কেন হয়নি, সেটার কঠোর সমালোচনা করুন—কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু একেবারেই কিছু হয়নি এমনভাবে কথা বললে মনে হয় সমালোচনাটা সততার জায়গা থেকে হচ্ছে না।’
জুলাইয়ের মামলাগুলোতে জামিন প্রসঙ্গে নিজের কোনো ভূমিকা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জুলাইয়ের ঘটনায় হওয়া জামিনের প্রায় ৯০ শতাংশই হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। হাইকোর্টের বিচারক জামিন দিলে সেখানে আইন উপদেষ্টার কিছু করার নেই। বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির অধীনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিষয়।’
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আমি কি হাইকোর্টের বিচারককে সরাতে পারি? বিচারক যদি ভুলভাবে জামিন দেন, সেটার দায় কেন আমার ওপর চাপানো হয়? সত্যিই যদি এসব বন্ধ করতে চান, তাহলে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে কথা বলেন।’
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে দায়ী করা হচ্ছে মন্তব্য করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এই দায়টা আমার ওপর দেওয়া হয় দুই কারণে। এক—ভিউ ভালো হয়, ব্যবসা ভালো হয়, মনিটাইজেশন হয়। আসিফ নজরুলকে গালি দিলে একটু টাকা আসে। আর দুই—বিশেষ একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আমাকে দুর্বল করা দরকার।’
সবাইকে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসলাম ধর্মে আত্মসমালোচনা সবচেয়ে বড় গুণগুলোর একটি। আসুন আমরা সবাই আত্মসমালোচনা করি, একে অপরের মতামত ও সীমাবদ্ধতা বোঝার চেষ্টা করি। তাহলেই ধীরে ধীরে সংস্কারের পথে এগোনো সম্ভব হবে।’
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি বলেন, ‘অনেকে বড় বড় কথা বলেন, কিন্তু নিজেরা কি সংস্কার হয়েছেন? এনজিও, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল—সবাইকে আত্মসমালোচনা করতে হবে। আমরা যদি সৎ হই এবং নিয়ত পরিষ্কার রাখি, তাহলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে এই দেশ অনেক ভালো জায়গায় পৌঁছাবে।’
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।