রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

পাকিস্তান জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে বিক্রির পথে

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪:০৪

ছবি: সংগৃহীত

নতুন বছরের শুরুতেই পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান জাহের আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান। বৈঠকের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জানায়, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের কাছে বিক্রি হতে পারে।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান পুরনো নৌবহর আপগ্রেড ও বিমান নজরদারি বৃদ্ধির জন্য বিমান প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম একীকরণে সহায়তা চেয়েছেন। ৬ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয়েছে যে, প্রশিক্ষণ বিমান সুপার মুশশাক দ্রুত সরবরাহ করা হবে। জেএফ-১৭ থান্ডারের সম্ভাব্য ক্রয় সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে।

জেএফ-১৭ থান্ডার কি এবং কেন জনপ্রিয়

জেএফ-১৭ থান্ডার হলো হালকা, বহুমুখী যুদ্ধবিমান। পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে এটি তৈরি।

  • প্রথম উন্মোচন: ২০০৭

  • প্রাথমিক ভেরিয়েন্ট ব্লক ১: ২০০৯

  • সর্বোচ্চ উন্নত ব্লক-৩ ভেরিয়েন্ট: ২০২০

  • ক্ষমতা: আকাশ থেকে আকাশ, আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র বহন, উন্নত এভিওনিক্স ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা।

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডরদের মতে, এটি মধ্যম শক্তির জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প, কারণ:

  • ব্যয়-কার্যকারিতা বেশি

  • রক্ষণাবেক্ষণ কম

  • অস্ত্র বহন ও ব্যবহার সহজ

  • প্রশিক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশের সুবিধা

মূল্য প্রায় ২৫–৩০ মিলিয়ন ডলার, যা পশ্চিমা ও রাশিয়ান জেটের তুলনায় কম। উদাহরণস্বরূপ, রাফালে জেটের দাম ৯০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

আন্তর্জাতিক বাজারে জেএফ-১৭

  • মিয়ানমার: প্রথম ক্রেতা, ২০১৫ সালে ১৬টি ব্লক ২ বিমান অর্ডার।

  • নাইজেরিয়া: ২০২১ সালে ৩টি জেট যুক্ত।

  • আজারবাইজান: ২০২৪ সালে ১৬টি জেট অর্ডার।

  • লিবিয়া ও সৌদি আরব: বড় চুক্তি বা আলোচনা চলমান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের ফলাফল জেটটির আবেদন বাড়িয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, সংঘর্ষে তাদের জেট অনেক ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করেছে।

জেএফ-১৭ বনাম অন্যান্য যুদ্ধবিমান

  • পঞ্চম প্রজন্মের জেট: এফ-২২, এফ-৩৫, চীনের জে-২০, জে-৩৫, রাশিয়ার এসইউ-৫৭

  • ৪.৫ প্রজন্মের জেট: জেএফ-১৭ থান্ডার, সুইডিশ গ্রিপেন, ফ্রান্সের রাফায়েল, ইউরোফাইটার টাইফুন

  • মূল পার্থক্য: স্টিলথ ক্ষমতা সীমিত; কম দাম, সহজ রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণে সুবিধাজনক।


বাংলাদেশ কেন আগ্রহী

বাংলাদেশ ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক পুনঃমূল্যায়ন করেছে।

  • জেএফ-১৭ বা সুপার মুশশাক ক্রয় কেবল বিমান নয়, দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ক।

  • বিমান ও বিক্রয়োত্তর পরিষেবার মাধ্যমে ৩–৪ দশক পর্যন্ত ব্যবহার নিশ্চিত।

  • চীনের জে-১০ বিমানেও আগ্রহ থাকার কারণে ভবিষ্যতের কৌশলগত নির্বাচন স্পষ্ট।

বিশেষ বিশ্লেষক মন্তব্য

  • যুদ্ধের ফলাফল কেবল বিমানের ওপর নয়, পাইলট ও সমন্বয় ব্যবস্থার দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল।

  • সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেটের দেশগুলোর জন্য জেএফ-১৭ সাশ্রয়ী ও কার্যকরী বিকল্প।

  • পাকিস্তান নিজের সামরিক সফলতাকে প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে কাজে লাগাচ্ছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top