সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ব্যাংক খাতে গভর্নরের নির্দেশনা ও সতর্কতা

স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২১

ছবি: সংগৃহীত

দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনের প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে, গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ব্যাংকগুলিকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ‘ব্যাংকার্স সভায়’ সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিদের নিয়ে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা। এছাড়া, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগদ লেনদেনে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে গণভোটের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা সবার দায়িত্ব। ব্যাংকগুলোও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে। কোনো বেসরকারি সংস্থা যদি জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নেয়, তাহলে ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অনুদান হিসেবে সহায়তা দিতে হবে।”

তিনি আরও সতর্ক করেছেন, ডলার প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার ক্রয় করছে। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৩৭৫ কোটি ডলার কেনার বিপরীতে বাজারে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। ব্যাংকগুলিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এ অর্থ অপচয় না হয়।

একই সঙ্গে নগদ লেনদেনের তদারকির জন্য আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) ব্যবস্থা কঠোর করছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১০ লাখ টাকার বেশি যে কোনো লেনদেনের তথ্য সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ব্যাংককে পাঠাতে হবে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, খেলাপি ঋণ হ্রাসের গতি বাড়ছে। গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কমে ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। সেপ্টেম্বর শেষে এটি ৩৫.৭৩ শতাংশ ছিল। ব্যাংকগুলোকে পরবর্তী মার্চ প্রান্তিকে ঋণ ২৫ শতাংশে নামানোর জন্য ঋণ আদায় জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গভর্নর বলেন, বৈধ পথে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অনেক বেড়েছে, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স আরও বাড়তে পারে, তবে এর অপব্যবহার রোধে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া, বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস পরিচালনায় লাভজনকতা বাড়ানোর পরামর্শও বৈঠকে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “বৈঠকে খেলাপি ঋণ কমানো, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা এবং বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউস পরিচালনার বিষয়ে ব্যাংক এমডিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top