পদত্যাগের পরও সরকারি বাসভবনে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টারা
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২০:১৩
প্রায় দুই মাস আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। এর এক মাস পর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদ থেকে পদত্যাগ করেন খোদা বখশ চৌধুরী। তবে পদত্যাগের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো মন্ত্রিপাড়ায় বরাদ্দকৃত সরকারি বাসভবন ছাড়েননি।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে তারা কবে বাসা বুঝিয়ে দেবেন বা ছাড়বেন—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, “এটি বড়দের বিষয়, তারাই ভালো জানেন।”
সূত্র জানায়, সরকারি বাসভবন থেকেই তারা বর্তমানে নিজেদের নিত্য কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বর্তমানে হেয়ার রোডের ‘ছায়াবীথি-৬’ নম্বর ডুপ্লেক্স বাংলোতে বসবাস করছেন। পদত্যাগের পর তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন এবং বর্তমানে দলটির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় কার্যক্রমও তিনি ওই সরকারি বাসভবন থেকেই পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।
আরেক সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম থাকছেন হেয়ার রোডের ‘ছায়াবীথি-৩’ নম্বর ডুপ্লেক্স বাংলোতে। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদ থেকে পদত্যাগ করা খোদা বখশ চৌধুরী বসবাস করছেন ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট-৩’-এ।
পদত্যাগের পর সরকারি বাসভবন ছাড়ার বিষয়ে আবাসন পরিদপ্তরের বিদ্যমান নীতিমালায় মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই। আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নীতিমালায় বলা আছে, অবসর গ্রহণের পর দুই মাস পর্যন্ত বাসভবনে থাকা যাবে। সন্তানরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকলে এ সময়সীমা আরও চার মাস বাড়ানো যায়। বদলির ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ দুই মাস, শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ছয় মাস পর্যন্ত থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “তারা এখনো বাসা ছাড়েননি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে যে ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হবে, সেটি আমরা অনুসরণ করব।”
এ বিষয়ে পদত্যাগ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।