শাওয়ালের ৬ রোজা রাখার নিয়ম ও ফজিলত

Nasir Uddin | প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২৫, ১৪:২৬

ফাইল ছবি

পবিত্র মাহে রমজান বিদায় নিয়েছে। ঈদুল ফিতরের মাধ্যমে শুরু হয়েছে শাওয়াল মাস। এই মাসে মুমিনের নেকীর পাল্লা ভারী করার অনেক আমল রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো শাওয়াল মাসের ছয় রোজা। এই ৬টি রোজা রাখা সুন্নত। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে এ আমল করেছেন এবং আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর তার সঙ্গে সঙ্গে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন পূর্ণ বছরই রোজা রাখল। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬৪)

অর্থাৎ রমজানের ২৯/৩০টি রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের যেকোনো ৬ দিন রোজা রাখলেই ১ বছর অর্থাৎ, পুরো ৩৬০ দিন রোজা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে।

৬ রোজা রাকার নিয়ম:

ঈদের দিনটি ছাড়া পুরো মাসেই নফল রোজা রাখা যায়। তবে হাদিস শরিফে শাওয়াল মাসে মোট ৬টি নফল রোজা রাখার বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই ছয় রোজা টানা রাখা যায়, আবার বিরতি দিয়েও রাখা যায়। অর্থাৎ শাওয়াল মাসের মধ্যে নিজের সুবিধামতো মোট ছয়টি রোজা রাখলে হয়ে যায়।

এ বছর (২০২৫) ২৯ শাওয়াল মোতাবেক ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ রোজাগুলো রাখার সুযোগ থাকছে। এই রোজাগুলো রাখার ব্যাপারে বিশেষ কোনো দিন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি হাদিস শরিফে। বিজ্ঞ ফিকহবিদ ও আলেমদের অভিমত হলো— ঈদের দিনটি বাদ দিয়ে শাওয়াল মাসের যেকোনো ছয়দিনে রোজা রাখলেই হবে। ধারাবাহিকভাবেও এই ছয়টি রোজা রাখা যাবে, আবার বিরতি দিয়ে দিয়ে ছয়টি রোজা পূরণ করতে পারলেও হাদিসে বর্ণিত সওয়াব পাওয়া যাবে।

তবে, সুন্দর একটি পদ্ধতি হলো- সাপ্তাহিক সুন্নত রোজা অর্থাৎ প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজার সাথে মিল রেখে সহজেই শাওয়ালের রোজাগুলো রাখা যায়। কেউ যদি শাওয়াল মাসের প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখে, তাহলে তিন সপ্তাহেই সহজে তার ছয়টি রোজা পূর্ণ হয়ে যাবে।

একইভাবে আইয়ামে বিজের সঙ্গে মিল রেখেও রোজাগুলো রাখা যায়। আইয়ামে বিজ বলতে হিজরি বছরের প্রতি মাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখকে বোঝানো হয়। প্রতি মাসে এ দিনগুলোতে রোজা রাখা সুন্নত। সুতরাং শাওয়াল মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ এবং এর আগে পরে আরও তিনটি রোজা রাখা যায়।

তবে শাওয়ালের রোজাগুলো যত তাড়াতাড়ি আদায় করা যায় ততই ভালো। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারাই দ্রুত সম্পাদন করে কল্যাণকর কাজ এবং তারা তাতে অগ্রগামী হয়।’ (সুরা মুমিনুন: ২৮) আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং এমন জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও, যার প্রশস্ততা হবে আকাশসমূহ ও জমিনসম। তা মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৩৩)

শাওয়ালের ৬ রোজা কাজা রোজার আগে নাকি পরে?
যাদের ভাংতি রোজা আছে, অসুস্থতা কিংবা নারীদের হায়েজ-নেফাসের কারণে রমজানের রোজা অপূর্ণ থাকে, তাদের জন্য নিয়ম ও করণীয় হলো—‘শাওয়াল মাসে তাদের ভাংতি রোজাগুলো আগে পূর্ণ করে নেবে। তারপর তারা শাওয়ালের ৬ রোজা পালন করবে। কেননা ‘..যার ওপর কাজা রয়ে গেছে সে রোজা পুর্ণ করেছে বলে গণ্য হবে না যতক্ষণ ওই রোজাগুলোর কাজা আদায় না করে।’ (আল মুগনি: ৪৪০) সুতরাং আগে রমজানের রোজা পূর্ণ করবে, তারপর শাওয়ালের ৬ রোজা রাখবে—তবেই সারাবছর রোজা রাখার সওয়াব মিলবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top