রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২

ঢাকায় হযরত আলী (আ.) এর স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ধর্ম ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১১

ছবি: সংগৃহীত

আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আ) এর স্মরণে আজ বিকেলে রাজধানী ঢাকার বিএমএ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকাস্থ আল মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধির দপ্তর,বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটি, আল হাদি আন নাজিব ফাউন্ডেশন এবং ইন্সটিটিউট অব হিউম্যান সাইন্স রিসার্স এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হযরত আলী (আ) এর ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ‘বয়ানে ফাযায়েলে রজব ও জশনে মওলুদে কা’বা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর উপাচার্য প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান ও ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেযা মীর মোহাম্মাদী। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক খতিব ও আরেফীন দরবার সাঁতাকূল দায়েরা শরীফের পীর সাহেব মাওলানা ড. সৈয়দ এমদাদ উদ্দনি নিজামপুরী, ঢাকাস্থ মহাখালী দারুল উলুম হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম আল-মারুফ, বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটির সহ সভাপতি হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ আফতাব হোসাইন নাকাভী, ইন্সটিটিউট অব হিউম্যান সাইন্স রিসার্স এর পরিচালক ড. এ কে এম আনোয়ারুল কবীর, বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটির সেক্রেটারী জেনারেল ড. এম আব্দুল কুদ্দুস বাদশা এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত আলী ইবনে আবি তালিব ইসলামিক ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল হুজ্জাতুল ইসলাম মোহাম্মদ আলী মূর্তজা। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকাস্থ রাসূলে আকরাম (সা.) ইসলামিক ইন্সটিটিউট এর প্রিন্সিপাল ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পৃথিবীতে যতো মহান মনীষীর জন্ম হয়েছে তাঁদের অন্যতম হলেন আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আ.)।তিনি এমন এক মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন,যাঁর সম্মান-মর্যাদা,জ্ঞান ও সাহসী ভূমিকা ইসলামের ইতিহাসে চির স্মরণীয় হয়ে আছে। ইসলামের ইতিহাসে রাসূলে খোদার পর ধর্মীয়,সাংস্কৃতিক এবং জ্ঞান-গবেষণার ক্ষেত্রে যাঁর প্রচেষ্টাকে যুগান্তকরী বলে মনে করা হয় তিনি হলেন হযরত আলী (আ.)।

বক্তারা বলেন,মহানবী (সা.) এর জামাতা ও চাচাতো ভাই আলী (আ.) ছিলেন বীরত্ব, মহানুভবতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। হযরত আলী (আঃ) ছিলেন সেই ব্যক্তিত্ব যার সম্পর্কে রাসূলে পাক (সাঃ) বলেছেন, মুসার সাথে হারুনের যে সম্পর্ক তোমার সাথে আমার সেই সম্পর্ক, শুধু পার্থক্য হল হারুন (আঃ) নবী ছিলেন, তুমি নবী নও। আলী (আ.) এমন এক ব্যক্তিত্ব যাঁর নাম উচ্চারণ ও যাঁর বরকতময় জীবনের আলোচনা মানুষের ঈমানকে তাজা করে দেয়। বিশ্বনবী (সা) বলেছেন, আমি জ্ঞানের নগরী আর আলী তার দরজা। অর্থাৎ বিশ্বনবী (সা)’র জ্ঞানের শহরে কেবল হযরত আলী (আ)’র মাধ্যমেই প্রবেশ করা সম্ভব। হযরত আলী (আ) নিজেও বলতেন, কুরআনের এমন কোনো আয়াত নেই যে বিষয়ে আমি রাসূল (সা)’র সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করিনি। বলা হয় বিশ্বনবী (সা) আলী (আ)-কে এক হাজার বিষয় বা অধ্যায়ের জ্ঞান শিখিয়েছিলেন। আর এসবের প্রত্যেকটির ছিল এক হাজার শাখা।
বক্তারা বলেন, হযরত আলী (আ.)’র আকাশ-ছোঁয়া বীরত্ব ও মহত্ত্ব কেবল মুসলিম কবি, সাহিত্যিক বা মনীষীদেরই প্রভাবিত করেনি, অমুসলিম পণ্ডিতরাও তার সুবিশাল ব্যক্তিত্বের ব্যাপকতায় অভিভূত ও হতবাক হয়েছেন।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top