রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান— যেভাবে স্বাগত জানাবেন
ধর্ম ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:১০
প্রতি বছর আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ নিয়ে আমাদের জীবনে ফিরে আসে পবিত্র মাস রমজান। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এটি এক বিশেষ অনুগ্রহ—রহমত, বরকত ও মাগফিরাতে ভরপুর একটি প্রশিক্ষণকাল। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো যথাযথ প্রস্তুতি, আনন্দ ও সচেতনতার সঙ্গে এই মাসকে বরণ করে নেওয়া।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা রোজা ফরজ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল—যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’
(সুরা বাকারা: ১৮৩)
এই নির্দিষ্ট কয়েক দিনের ইবাদতে অসুস্থ ও সফররতদের জন্য রয়েছে ছাড় এবং অক্ষমদের জন্য ফিদইয়ার বিধান। তবে রোজা রাখাই উত্তম—যদি তারা তা অনুধাবন করে। (সুরা বাকারা: ১৮৪)
এ মাসেই মানবজাতির পথনির্দেশক হিসেবে কুরআন নাজিল হয়েছে—
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ
‘রমজান মাস—যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত।’
(সুরা বাকারা: ১৮৫)
১. বিশেষ দোয়া ও আন্তরিক প্রস্তুতি
রমজান পাওয়ার তাওফিক চেয়ে আগেভাগেই আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত। নবীজি (সা.) রজব মাস এলে দোয়া করতেন—
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাসে আমাদের বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজানে পৌঁছে দিন।’
(মুসনাদ আহমদ: ২৩৪৬)
নতুন চাঁদ দেখেও তিনি নিরাপত্তা, ঈমান ও কল্যাণের দোয়া করতেন।
২. কৃতজ্ঞতা ও আনন্দ প্রকাশ
রমজান পাওয়া নিজেই এক বড় নিয়ামত। নবীজি (সা.) সাহাবাদের সুসংবাদ দিতেন—
أَتَاكُمْ رَمَضَانُ شَهْرٌ مُبَارَكٌ
‘তোমাদের কাছে এসেছে বরকতময় মাস রমজান…।’
(নাসাঈ: ২১০৬)
সাহাবায়ে কেরামও একে অপরকে রমজানের শুভেচ্ছা জানাতেন।
৩. পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্প
রমজানকে ফলপ্রসূ করতে চাইলে মাসব্যাপী পরিকল্পনা জরুরি। যেমন—
-
নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
-
প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত
-
গুনাহ পরিহার ও আন্তরিক তাওবা
-
সম্পর্কের ভুল সংশোধন ও ক্ষমা প্রার্থনা
দৃঢ় সংকল্পই রমজানকে সফল করে তোলে।
৪. রোজার বিধান জানা
রোজা শুধু পানাহার বর্জনের নাম নয়; বরং মন্দ কথা ও অন্যায় কাজ থেকেও বিরত থাকার নাম। নবীজি (সা.) বলেছেন—
‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও অন্যায় কাজ ত্যাগ করে না, তার খাদ্য ও পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’
(বুখারি: ১৯০৩)
৫. দান, উদারতা ও মানবিকতা
রমজান দান ও সহমর্মিতার মাস। গরিব-অসহায়দের সহায়তা, ইফতার ভাগাভাগি এবং জাকাত-সদকায় অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। হাদিসে এসেছে—
‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল; আর রমজানে তিনি আরও বেশি দানশীল হতেন।’
(বুখারি: ৬)
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।