রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২

সামিটের পথে ব্যালকনি: সাহস ও সংযমের পরীক্ষা

ইকরামুল হাসান শাকিল , পর্বতারোহী ও লেখক | প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৭

ছবি: সংগৃহীত

এভারেস্টের চূড়ার নিকটে অবস্থিত ‘ব্যালকনি’ এমন একটি জায়গা, যা কেবল ভৌগোলিক নয়, বরং মানুষের মানসিক শক্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮,৪০০ মিটার উচ্চতায়, ক্যাম্প-৪ সাউথ কোলের ওপরে অবস্থিত এই ছোট সমতল অংশটি সামিট অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর একটি। এখান থেকে হাতের বামে মোড় নিয়ে রিজ ধরে সামিটের দিকে উঠতে হয়।

সামিটের আগে, ক্লাইম্বাররা ব্যালকনিতে এসে শেষ প্রস্তুতি নেয়। অক্সিজেন সিলিন্ডার বদলানো, মাস্ক ঠিক করা এবং সামিট পুশের আগে শেষ বিশ্রাম — এগুলো সবই হয় এখানে। কিন্তু ব্যালকনির প্রকৃত গুরুত্ব কেবল যান্ত্রিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

এই উচ্চতায় শরীর ‘ডেথ জোনে’ থাকে। শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, হাড়কাঁপানো ঠান্ডা—সবকিছু একসাথে উপস্থিত। ঠিক তখনই ব্যালকনি হয়ে ওঠে আত্মজিজ্ঞাসার জায়গা। এখানে ক্লাইম্বাররা নিজের শরীর ও মনকে প্রশ্ন করে—সামিটে এগোতে হবে, নাকি ফিরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ? ব্যালকনির পরবর্তী পথ আরও সরু, আরও বিপজ্জনক, আর ফেরার সুযোগ সীমিত।

ব্যালকনি শুধু সামিটের নিশ্চয়তা নয়; এটি মানুষের ক্ষমতা ও সীমার এক আয়নার মতো প্রতিফলন। এখানে কেউ এগিয়ে যায়, কেউ ফিরে আসে—দুটো সিদ্ধান্তই সমান সাহসের পরিচায়ক। এভাবে ব্যালকনি হয়ে ওঠে শুধু একটি স্থান নয়, বরং মানুষের সংকল্প, সংযম এবং সাহসের নীরব সাক্ষী।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top