দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় মির্জা ফখরুল

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩:০২

মির্জা ফখরুল।  ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে। দলের অধিকাংশ প্রবীণ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা জয়ী হয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণের পথে রয়েছেন।

বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি জয়ী সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ নেবেন। একই দিনে বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। তাই রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির পদে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনের পর তিনি তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব এবং আপসহীন চরিত্র তাকে রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনীতিতে তিনি ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং দীর্ঘদিন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হয়ে দলের দীর্ঘমেয়াদি মহাসচিব হিসেবে পরিচিতি পান। বিশ্লেষকরা মনে করেন, তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা দেশের গণতান্ত্রিক ভারসাম্য ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বকে সমন্বয় করে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা চলছে।

রাজনীতিক ও দলীয় সূত্রের মতে, রাষ্ট্রপতির পদে আলোচনায় আরও রয়েছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যিনি একসময় কুয়েতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী।

আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শপথ ও সরকার গঠন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সংবিধানের বাইরে হলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। তাই গেজেট প্রকাশের তিনদিন পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তাবনা নেওয়া হচ্ছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top